দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক প্রতিবাদ-বিক্ষোভ কর্মসূচি হয়েছে। এমনকি সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখেও মিছিল হয়েছে। এই আবহেই এ বার প্রতিবাদের প্রসঙ্গ উঠে এল দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের মুখে। এক মামলাকারীর আবেদন খারিজ করার সময়ে হালকা মেজাজে তাঁকে উদ্দেশ করে প্রধান বিচারপতি বললেন, ‘‘আপনি ভুল নম্বরে ডায়াল করছেন। স্লোগান তুলে প্রতিবাদে নামা উচিত ছিল।’’
সংসদ এবং বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভায় তফসিলি জাতি ও জনজাতির জন্য সংরক্ষিত আসনগুলির পর্যায়ক্রমিক পরিবর্তন বাধ্যতামূলক করার দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের হয়েছিল। বুধবার সেই আবেদন খারিজ করে দেয় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ। আদালতের পর্যবেক্ষণ, এ ধরনের নীতি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার এক্তিয়ার আইনসভার। এই বিষয়ে আদালত কোনও নির্দেশ দিতে পারে না।
আবেদন খারিজ করার সময়েই মামলাকারীকে উদ্দেশ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘‘আপনি ভুল নম্বরে ডায়াল করছেন। এটাই প্রতিবাদ করার, স্লোগান তোলার জন্য ভাল সময়। আপনি সেটাও করতে পারেন।’’ অর্থাৎ, আদালতের পরিবর্তে প্রতিবাদ বা আন্দোলনের মাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরার পরামর্শ দেন তিনি।
এই মামলাটি এর আগে এলাহাবাদ হাই কোর্টেও উঠেছিল। সেখানেও আবেদন খারিজ হয়ে যায়। হাই কোর্ট জানিয়েছিল, আদর্শগত দিক থেকে বিবেচনা করলে সংরক্ষিত আসনগুলির পর্যায়ক্রমিক পরিবর্তনের ব্যবস্থা অনুসরণ করা যেতে পারে। তবে এ বিষয়ে নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা আদালতের নেই। সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব আইনসভার।
এ বার সুপ্রিম কোর্টও এলাহাবাদ হাই কোর্টের সেই অবস্থানের সঙ্গে সহমত পোষণ করেছে। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ জানায়, এ ধরনের নীতিগত সিদ্ধান্ত আইনসভার এক্তিয়ারভুক্ত। তাই আদালতের কাছে এই বিষয়ে নির্দেশ চেয়ে আবেদন জানানো যথাযথ নয়।
প্রধান বিচারপতির মন্তব্যের পর মামলাকারীর আইনজীবীও হালকা মেজাজে জানান, তাঁর মক্কেলের প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করার কোনও ইচ্ছা নেই। তা ছাড়া, তাঁর গলাতেও ব্যথা রয়েছে। তবে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, মামলাকারী চাইলে জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। সংরক্ষিত আসনের পর্যায়ক্রমিক পরিবর্তনের নীতি গ্রহণের জন্য তাঁদের রাজি করানোর চেষ্টা করতে পারেন।

