টেস্ট ও এক দিনের ক্রিকেটে ভারতীয় মহিলা দলের পারফরম্যান্স নিয়ে বিশেষ উদ্বেগ নেই। শেষ পাঁচটি টেস্টের মধ্যে চারটিতে জয় পেয়েছে ভারত। গত বছর এক দিনের বিশ্বকাপও জিতেছে তারা। তবে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে প্রত্যাশিত সাফল্য আসছে না। ২০২৪ ও ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে দলকে। এই পরিস্থিতিতে ছোট ফরম্যাটে ভারতকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে নতুন পরিকল্পনা করছেন মহিলা দলের কোচ অমল মুজুমদার। তাঁর লক্ষ্য, টি-টোয়েন্টির জন্য বিশেষজ্ঞ ক্রিকেটারদের নিয়ে একটি পৃথক দল তৈরি করা।
মুম্বইয়ে একটি অনুষ্ঠানে নিজের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন অমল। তাঁর কথায়, আগের তুলনায় গত দু’বছরে ভারতীয় দল অনেক বেশি দাপট দেখিয়েছে। তবে বিশ্বক্রিকেটে আরও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চান তাঁরা। সেই লক্ষ্যেই আরও আগ্রাসী ও নির্মম ক্রিকেট খেলার পরিকল্পনা চলছে।
এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তরুণ প্রতিভাদের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন কোচ। অমল জানিয়েছেন, বেঙ্গালুরুর উৎকর্ষ কেন্দ্রে বেশ কয়েক জন প্রতিভাবান ক্রিকেটার তৈরি হচ্ছেন। অনূর্ধ্ব-১৫ ও অনূর্ধ্ব-১৯ শিবিরেও অনেক ক্রিকেটার নজর কেড়েছেন। তাঁদের পারফরম্যান্স দেখে ভারতের মহিলা ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী তিনি।
তরুণ ক্রিকেটারদের দ্রুত জাতীয় দলের উপযোগী করে তোলার প্রক্রিয়াও চলছে। অমলের মতে, এই ক্রিকেটারেরা ইতিমধ্যেই পেশাদার মানসিকতা তৈরি করে ফেলেছেন। কম বয়স থেকেই তাঁরা প্রস্তুতির গুরুত্ব বুঝতে শিখেছেন। ফিটনেস বাড়ানোর পাশাপাশি নিয়ম মেনে খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখার দিকেও নজর দিচ্ছেন তাঁরা।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের দ্রুত পরিবর্তনশীল চরিত্রের কথাও মাথায় রাখছেন অমল। একই সঙ্গে ক্রিকেটারদের উপর অতিরিক্ত ম্যাচের চাপ না দেওয়ার পক্ষপাতী তিনি। তাই টেস্ট ও এক দিনের দলের ক্রিকেটারদের দিয়ে সব ফরম্যাট সামলানোর বদলে ছোট ফরম্যাটের জন্য পৃথক বিশেষজ্ঞ দল গড়ার ভাবনা রয়েছে তাঁর। অমল বলেন, বছরে প্রচুর ম্যাচ খেলতে হওয়ায় ক্রিকেটারদের শারীরিক ধকলের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। তাঁর মতে, টি-টোয়েন্টিতে ভারতীয় দলের দাপট দেখানোর সময় এ বার এসেছে।
ভারতীয় পুরুষ ক্রিকেটে ইতিমধ্যেই এই ধরনের পরিকল্পনার প্রতিফলন দেখা গিয়েছে। টেস্ট ও এক দিনের দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে অল্প কয়েক জনই টি-টোয়েন্টি দলে নিয়মিত সুযোগ পান। ছোট ফরম্যাটের জন্য বিশেষজ্ঞ ক্রিকেটারদের উপর ভরসা করছেন গৌতম গম্ভীরেরাও। এ বার মহিলা ক্রিকেটেও সেই পথ অনুসরণ করতে চাইছেন অমল মুজুমদার।

