রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে মানেই সমস্ত সমস্যার সমাধান হয়ে গিয়েছে— স্বয়ংসেবকদের এমন ধারণা পোষণ করা থেকে বিরত থাকার কড়া বার্তা দিল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস)। বুধবার নিউ টাউনে সঙ্ঘের নবনির্মিত রাজ্য দফতরের প্রাথমিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বয়ংসেবকদের উদ্দেশে এই সতর্কবার্তা দেন আরএসএস-এর সহ-সরকার্যবাহ (সর্বভারতীয় সহকারী সাধারণ সম্পাদক) রামদত্ত চক্রধর। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের জেরে সঙ্ঘের কর্মীদের আচরণ বা সঙ্কল্পে যেন কোনো পরিবর্তন না ঘটে, সে বিষয়েও তিনি বিশেষ জোর দেন।
নিউ টাউনে নতুন দফতর ‘কেশব স্মৃতি’র উদ্বোধন
মানিকতলার ঐতিহ্যবাহী ‘কেশব ভবন’-এ সামাজিক কাজ বৃদ্ধি এবং সংগঠনের আকার বড় হওয়ার কারণে দীর্ঘ দিন ধরেই স্থান সঙ্কুলানের সমস্যা দেখা দিচ্ছিল। এই সমস্যার সমাধানে ২০২৩ সালে নিউ টাউনের অ্যাকশন এরিয়া ২ডি-তে নতুন ভবন তৈরির কাজ শুরু হয়। বুধবার সেই নবনির্মিত ‘কেশব স্মৃতি’ ভবনে বাস্তুপুজো ও হোমযজ্ঞের মধ্য দিয়ে প্রাথমিক উদ্বোধন সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত ছিলেন মূলত স্বয়ংসেবকেরা ও সঙ্ঘের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের পদাধিকারীরা।
অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য উপস্থিত হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বাস্তুপুজো চলাকালীন নোভনির্মিত ভবনে পৌঁছে তিনি প্রণাম সারেন এবং সঙ্ঘের প্রচারক ও পদাধিকারীদের সঙ্গে কথা বলে অন্যান্য কর্মসূচিতে চলে যান। পরে রামদত্ত চক্রধরের বক্তব্যেও মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতির প্রসঙ্গ উঠে আসে।
অনুকূল পরিস্থিতিতে সতর্ক থাকার বার্তা
অনুষ্ঠানের শেষ বক্তা হিসেবে রামদত্ত সঙ্ঘের প্রবীণ প্রচারক কেশবরাও দীক্ষিতের কঠিন সংগ্রামের দিনগুলি স্মরণ করিয়ে বর্তমানের ‘অনুকূল পরিস্থিতি’ নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘‘এই ভবনের ভূমিপূজনের সময় ভাবা যায়নি যে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কখনও এখানে আসতে পারেন। আজ উদ্বোধনে মুখ্যমন্ত্রী এলেন, অর্থাৎ পরিস্থিতি আমাদের অনুকূলে বদলেছে। কিন্তু মনে রাখবেন, এই পরিস্থিতিতে আমাদের দায়িত্ব আরও অনেক বেড়ে গিয়েছে।’’
বিজেপির জয় এবং সঙ্ঘের লক্ষ্য নিয়ে শীর্ষ নেতৃত্বের বক্তব্য অত্যন্ত স্পষ্ট:
- প্রতিকূলতার চেয়ে অনুকূলতা কঠিন: সহ-সরকার্যবাহের সতর্কবাণী, রাস্তা ঢালু হলেই যেমন দুর্ঘটনা বেশি ঘটে, তেমনই অনুকূল পরিস্থিতিতে সমস্যা ও আত্মতুষ্টির ঝুঁকি বাড়ে। বিজেপি ক্ষমতায় এলেই তপস্যা সফল হয়েছে বা সব সমস্যার সমাধান হয়ে গিয়েছে— এমন ভাবার কোনো কারণ নেই।
- সমাজের নজরে স্বয়ংসেবকরা: রামদত্ত মনে করিয়ে দেন যে সমাজ বিজেপিকে দেখে না, সমাজ দেখে সঙ্ঘকে এবং স্বয়ংসেবকদের আচার-আচরণকে। নিজেদের মূল সঙ্কল্পে অবিচল থেকে ‘স্বয়ংসেবকত্ব’ বজায় রাখার ওপর তিনি জোর দেন।
আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর এই নতুন দফতরের আনুষ্ঠানিক ‘লোকার্পণ’ বা দ্বারোদ্ঘাটন হবে, যেখানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে সঙ্ঘের সর্বভারতীয় সরকার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসবলের। এই অনুষ্ঠানে সঙ্ঘের শতাব্দী বর্ষের কর্মসূচিকে সামনে রেখে জনসংযোগ বৃদ্ধি এবং দ্রুত শাখা বিস্তারের নির্দেশও দিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

