মন্ত্রী ও সাংসদদের পর এ বার রাজ্যের একাধিক সরকারপোষিত কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতি পদে নামোল্লেখ হলো একাধিক বিজেপি নেতার। গত আগস্ট মাসে রাজ্যের ২৪৭টি সরকারপোষিত কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতির তালিকা প্রকাশিত হয়েছিল, যেখানে অধিকাংশ পদেই বিজেপি জনপ্রতিনিধিদের নাম দেখা গিয়েছিল। এ বার আরও ১৭১টি কলেজের পরিচালন সমিতির নতুন সভাপতিদের নামের তালিকা প্রকাশ করা হলো, যেখানেও একাধিক বিজেপি নেতা-নেত্রীর নাম রয়েছে।
নতুন বিজ্ঞপ্তি ও প্রশাসনিক নির্দেশিকা পশ্চিমবঙ্গের সরকারপোষিত ১৭১টি কলেজের পরিচালন সমিতির নতুন সভাপতি মনোনীত করা হয়েছে। ‘পশ্চিমবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ (প্রশাসন ও নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৭’-এর ধারা অনুযায়ী উচ্চশিক্ষা দফতর থেকে এই বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। এই কলেজগুলিতে পূর্বে নিযুক্ত অ্যাডমিনিস্ট্রেটরদের সরিয়ে তাঁদের স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে নতুন মনোনীত সভাপতিদের। নতুন সভাপতিরা দায়িত্ব গ্রহণ করার সঙ্গেই এই নির্দেশ কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, বর্ধমান, বাঁকুড়া, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ ও দার্জিলিং-সহ বিভিন্ন জেলার মোট ১৭১টি কলেজ এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
কলকাতাসহ বিভিন্ন কলেজে কারা পেলেন দায়িত্ব? তালিকা অনুযায়ী কলকাতার বিভিন্ন কলেজে সভাপতি পদে একাধিক পরিচিত রাজনৈতিক মুখের নাম রয়েছে:
- সুরেন্দ্রনাথ কলেজ: সভাপতি হয়েছেন বিজেপির উত্তর কলকাতার জেলা সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষ।
- সুরেন্দ্রনাথ কলেজ ফর উইমেন: সভাপতি পদে মনোনীত হয়েছেন ২০২৬ সালের এন্টালি বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়াল।
- আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু কলেজ: সভাপতি হয়েছেন শিশির বাজোরিয়া।
- বাসন্তী দেবী কলেজ: সভাপতি হয়েছেন শশী অগ্নিহোত্রী হেরা।
- হেরাম্বা চন্দ্র কলেজ: সভাপতি হয়েছেন রাজকমল পাঠক।
- সম্মিলনী মহাবিদ্যালয় (দক্ষিণ ২৪ পরগনা): সভাপতি হয়েছেন বিজেপির প্রাক্তন সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়।
- যোগেশচন্দ্র চৌধুরী আইন কলেজ: সভাপতি হিসাবে অজয় অগ্নিহোত্রীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
এ ছাড়াও এই তালিকায় বিজেপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের নাম রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার এবং কলেজগুলির অধ্যক্ষদের কাছে ইতিমধ্যেই এই নির্দেশিকার প্রতিলিপি পাঠানো হয়েছে।
রাজনৈতিক বিতর্ক ও প্রেক্ষাপট গত মে মাসে রাজ্যে নতুন সরকার গঠিত হয়। দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ ছিল যে, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে রাজ্যের অধিকাংশ সরকারপোষিত কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতি পদে শাসকদলের বিধায়ক বা সাংসদেরাই আসীন থাকতেন। বর্তমান সরকার গঠনের পর পূর্বের পদাধিকারীদের সরে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এবং একসময় মনে করা হয়েছিল শিক্ষাঙ্গনকে রাজনীতির প্রভাবমুক্ত রাখা হবে।
তবে সমালোচকদের মতে, বর্তমান সরকারের কার্যকালেও পুরনো ধারাই বজায় রয়েছে। যদিও উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় আগেই স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন যে, সরকার শিক্ষাঙ্গনকে কোনওভাবেই রাজনীতির বিচরণক্ষেত্র হতে দেবে না। এর আগে গত আগস্ট মাসে ২৪৭টি এবং এ বার নতুন করে আরও ১৭১টি কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতির তালিকা প্রকাশ করল উচ্চশিক্ষা দফতর।

