রাসুয়ার ভগ্নস্তূপ ও কাদা-পলির স্তরের মধ্যে রোজ হন্যে হয়ে নিখোঁজ ব্যক্তিদের খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছে নেপালি সেনা, পুলিশ ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী। জীবিত কাউকে উদ্ধারের আশা প্রায় ফুরিয়ে এলেও ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে মৃতদেহ উদ্ধারের কাজ জোরকদমে চলছে। এই উদ্ধারকাজে প্রশাসনের বড় ভরসা হয়ে উঠেছে ভারত থেকে নিয়ে যাওয়া প্রশিক্ষিত ল্যাব্রাডর প্রজাতির সারমেয় ‘সাম্বা’। কখনও দৌড়ে গিয়ে কোথাও থমকে দাঁড়াচ্ছে, আবার কখনও মাটিতে আঁচড় কাটছে—সাম্বার এমন আচরণ দেখেই সেখানে মাটি খুঁড়ে দেহ উদ্ধার করছে যৌথ বাহিনী। এভাবেই কেবল রাসুয়া অঞ্চলেই ২০টি দেহ খুঁজে বের করতে সাহায্য করেছে সাম্বা।
গত ২৬ আগস্ট নেপালের ভোটকোশী নদীতে হঠাৎ আসা হড়পা বানে উত্তর ও মধ্য নেপাল মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখনও পর্যন্ত ১,৩০০-এর বেশি মানুষের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং বহু মানুষ এখনও নিখোঁজ। নিখোঁজদের সন্ধান চালাতেই পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে মাঠে নেমেছে প্রশিক্ষিত কুকুরের দল। এর মধ্যে ভারত থেকে আনা ল্যাব্রাডর ‘সাম্বা’ নেপালের সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর কে-৯ বিভাগে যুক্ত রয়েছে। বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাসুয়ার তিমুরে এলাকা এবং ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী ধ্বংসস্তূপ থেকে ২০টি মৃতদেহ উদ্ধারে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে সে।
কোথাও মাটির নিচে বা ধ্বংসস্তূপের আড়ালে মৃতদেহ চাপা পড়ে থাকলে সাম্বা প্রথমে জোরে ঘেউ ঘেউ করে ওঠে কিংবা মাটি আঁচড়াতে শুরু করে। তার এই সংকেত পেয়েই তার হ্যান্ডলার ও সহকারীরা দ্রুত খননকার্য শুরু করেন। দুর্গত এলাকায় সাম্বার পাশাপাশি নেপালের সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে আরও চারটি প্রশিক্ষিত কুকুর উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছে। এছাড়া নেপাল পুলিশ আরও ছ’টি কুকুরকে এই কাজে নিয়োগ করেছে এবং নেপালি সেনার সঙ্গেও কয়েকটি কুকুর মোতায়েন রয়েছে।
অন্যিদিকে, এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জেরে বহু ভারতীয় পর্যটক, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের বেশ কিছু পর্যটক নেপালে গিয়ে নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের পরিবারের লোকজনকে দ্রুত ডিএনএ নমুনা জমা দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। বিপর্যয় ঘটার পর থেকে যাঁদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি, সেই নিখোঁজ ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের (বাবা, মা, পুত্র, কন্যা, ভাই বা বোন) নির্দিষ্ট কেন্দ্রে গিয়ে ডিএনএর নমুনা দিয়ে আসার নির্দেশিকায় অনুরোধ জানানো হয়েছে।

