বৈধ টিকিট থাকা সত্ত্বেও রেলওয়ে সুরক্ষা বাহিনী (আরপিএফ)-এর বিরুদ্ধে মাঝরাতে এক মহিলা যাত্রীকে ট্রেন থেকে নামিয়ে দেওয়ার এবং গ্রেফতার করার অভিযোগ উঠল। শুধু তাই নয়, সম্পূর্ণ প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে ওই মহিলার টিকিট বাতিল হয়ে গেলেও তাঁকে হেনস্থার শিকার হতে হয়, যার জেরে কেরল রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের নির্দেশে দক্ষিণ রেলকে ২ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হয়েছে। প্রশাসনিক ত্রুটি এবং মহিলা যাত্রীর সঙ্গে রেলকর্তাদের দুর্ব্যবহার— উভয় কারণেই রেলকে দায়ী করেছে কমিশন।
ঘটনাটি ঘটে ২০২৩ সালের ৩০ জুলাই। ত্রিশূরের এরুমাপেট্টির বাসিন্দা কে জয়স্মিতা ওয়াডাক্কানচেরি থেকে তিরুঅনন্তপুরমগামী ১৬৩৪৮ নম্বর ট্রেনের এস৪ কোচের ৪১ নম্বর বার্থের টিকিট বুক করেছিলেন। তিনি সম্পূর্ণ নিশ্চিত ছিলেন যে তাঁর রিজ়ার্ভেশন বৈধ। কিন্তু ট্রেনে ওঠার পর সিটে অন্য যাত্রীকে দেখতে পেয়ে তাঁর সন্দেহ হয়। গভীর রাতে কর্তব্যরত টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) তাঁকে জানান যে তাঁর টিকিট অনলাইনে বাতিল করা হয়েছে এবং অন্য বার্থের জন্য তাঁকে ৫০০ টাকা জরিমানা দিতে হবে। জয়স্মিতার কাছে সেই মুহূর্তে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় তিনি বিপাকে পড়েন।
এর পর আলুভা স্টেশনে তাঁকে ট্রেন থেকে নামিয়ে আরপিএফ-এর হাতে তুলে দেওয়া হয় এবং বৈধ টিকিট ছাড়াই ভ্রমণের অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। জয়স্মিতার অভিযোগ, আরপিএফ কর্মীরা তাঁর সঙ্গে এমন আচরণ করেন যেন তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে বিনা টিকিটে ভ্রমণ করছেন। পরে জামিনে মুক্তি পেলেও ততক্ষণে তাঁর অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে রেল কর্তৃপক্ষ নিজেরাই মামলাটি পর্যালোচনা করে ভুল বুঝতে পেরে তা প্রত্যাহার করে নেয়। তবে এই মিথ্যা মামলার কারণে ভুক্তভোগী মহিলা তাঁর চুক্তিভিত্তিক সরকারি চাকরিও হারিয়ে ফেলেন বলে কমিশনে জানান।
পরবর্তী একটি বিভাগীয় তদন্তে পুরো ঘটনার মূল কারণ হিসেবে একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটি সামনে আসে। টিকিট বুকিংয়ের সময় মোবাইল নম্বরের একটি সংখ্যা রেলওয়ের সিস্টেমে ভুল নথিভুক্ত হয়েছিল। এর ফলে জয়স্মিতার পরিবর্তে সম্পূর্ণ অপরিচিত এক ব্যক্তির ফোনে টিকিট বাতিলের অ্যালার্ট চলে যায় এবং তিনি না জেনেই তা বাতিল করে দেন। জয়স্মিতা প্রথম থেকেই বুকিং ক্লার্কের এই ভুলের কথা বললেও তাঁকে হেনস্থার শিকার হতে হয়। সবদিক বিবেচনা করে মানবাধিকার কমিশন ভুক্তভোগীকে ২ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

