রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের উদ্যোগে আয়োজিত বিনামূল্যে গুজরাতের সোমনাথ মন্দির দর্শনের ‘সফরসঙ্গী’ হচ্ছে স্বাস্থ্য দফতরও। এ বছর রাজ্যবাসীর জন্য নবান্নের উদ্যোগে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ১,১০০ পুণ্যার্থী গুজরাত যাত্রায় অংশ নিচ্ছেন। আগামী শনিবার এই যাত্রার সূচনা হতে চলেছে, যার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কলকাতা স্টেশন থেকে পুণ্যার্থীদের ওই দলের সঙ্গে সরকারি চিকিৎসক ও স্টাফ নার্সসহ সাত জনের একটি বিশেষ মেডিক্যাল টিম পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে নবান্ন।
রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশিকা অনুযায়ী, শুক্রবার থেকেই আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের এমএসভিপি সপ্তর্ষি চট্টোপাধ্যায়ের তত্ত্বাবধানে এই মেডিক্যাল টিম সোমনাথ যাত্রার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। আগামী ১০ দিনের জন্য পুণ্যার্থীদের স্বাস্থ্য পরিষেবা দিতে সফরসঙ্গী হবেন তিনজন বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল অফিসার এবং চারজন স্টাফ নার্স, যাঁদের মধ্যে নার্সরা কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে নিযুক্ত হয়েছেন।
পুণ্যার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে এই মেডিক্যাল টিমের হাতে ৮০ ধরনের জীবনদায়ী ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম তুলে দেওয়া হয়েছে। জ্বর, সুগার, উচ্চ রক্তচাপ, বদহজম বা আঘাতের মতো জরুরি পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে তালিকায় রাখা হয়েছে ২,০০০ প্যারাসিটামল, ১,০০০ অ্যান্টাসিড, এবং টেলমিসার্টান, অ্যামলোডিপাইন, মেট্রোনিডাজোল, প্যানটোপ্রাজোল, মেটফরমিন, সিটাগ্লিপটিন, ইনসুলিন, নর্মাল স্যালাইন ও রিঙ্গার ল্যাকটেটের মতো ওষুধ। এ ছাড়া পাল্স অক্সিমিটার, রক্তচাপ মাপার যন্ত্র, নেবুলাইজার ও প্রাথমিক চিকিৎসার নানা সামগ্রী সঙ্গে রাখছে দলটি।
সাধারণত গঙ্গাসাগর মেলায় এ ধরনের চিকিৎসা শিবির দেখা গেলেও, ভিন্রাজ্যের কোনও ধর্মীয় ভ্রমণে সরকারি খরচে মেডিক্যাল টিম পাঠানোর ঘটনা নজিরবিহীন। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে চিকিৎসক মহলে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছে। সার্ভিস ডক্টরস ফোরামের সম্পাদক সজল বিশ্বাস রাজ্যের চিকিৎসক ও নার্সের ঘাটতি এবং মরসুমি রোগের প্রকোপের কথা উল্লেখ করে এই পদক্ষেপে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন। নার্সেস ইউনিটির রাজ্য সম্পাদিকা ভাস্বতী মুখোপাধ্যায় এবং জয়েন্ট প্ল্যাটফর্ম অফ ডক্টর্সের আহ্বায়ক পুণ্যব্রত গুণও সরকারি খরচে চিকিৎসক-নার্স পাঠানোর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। পাশাপাশি, অ্যাসোসিয়েশন অফ হেলথ সার্ভিস ডক্টরস-এর সাধারণ সম্পাদক উৎপল বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সিনিয়র চিকিৎসক পবিত্র গোস্বামীও রাজ্যের বর্তমান বন্যা পরিস্থিতি ও হাসপাতালগুলির চিকিৎসকদের ব্যস্ততার মাঝে এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন।

