খাদ্যসুরক্ষার পাশাপাশি এ বার শপিং মলের অগ্নিসুরক্ষা ব্যবস্থাও কড়া নজরদারির আওতায় আনল রাজ্য প্রশাসন। বুধবার দক্ষিণ কলকাতার সাউথ সিটি মল সহ মধ্য ও পূর্ব কলকাতার বেশ কয়েকটি শপিং মলে হঠাৎ হানা দিয়ে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা খতিয়ে দেখলেন দমকল বিভাগের আধিকারিকেরা। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কলকাতা ও শহরতলির মোট ২৯টি শপিং মলে এই বিশেষ অভিযান বা ‘ফায়ার অডিট’ চালানো হবে বলে দমকল সূত্রে জানা গেছে।
পুজোর ঠিক আগে আয়োজিত এই বিশেষ অভিযানে প্রধানত শপিং মলের সামগ্রিক অগ্নিসুরক্ষা ব্যবস্থা, ফুড কোর্ট এবং রেস্তরাঁগুলির নিরাপত্তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দমকল সূত্রে খবর, রেস্তরাঁগুলিতে রান্নার ব্যবস্থা কেমন রয়েছে, অগ্নি নির্বাপণ সরঞ্জামগুলি ঠিকমতো কাজ করছে কি না এবং সংশ্লিষ্ট সমস্ত নথিপত্র যথাযথ রয়েছে কি না, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। অতীতে বহু অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জরুরিকালীন সিঁড়ি অবরুদ্ধ থাকা বা দরজা বন্ধ থাকার নজির থাকায়, এ দিন মলের আপৎকালীন সিঁড়ি ও বেরোনোর রাস্তাগুলি সম্পূর্ণ ফাঁকা রয়েছে কি না, তা বিশেষভাবে খতিয়ে দেখেন আধিকারিকেরা।
অভিযানের সময় মলের রেস্তরাঁয় উপস্থিত কয়েকজন গ্রাহকের কাছেও আগুন লাগলে বেরিয়ে যাওয়ার রাস্তা জানা আছে কি না, সে বিষয়ে জানতে চান দমকল আধিকারিকেরা। অনেক ক্ষেত্রে সঠিক উত্তর না মেলায়, আপৎকালীন পরিস্থিতিতে ‘বেরোনোর পথ’ বা ‘এগ্জিট রুট’ আরও স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দমকল আধিকারিক পিনাকি দাস জানিয়েছেন, রান্নার পদ্ধতি থেকে শুরু করে গ্রাহকদের দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসার সুনির্দিষ্ট পথ চিহ্নিত করা রয়েছে কি না, সে সব বিষয়ই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এর আগে নিউ মার্কেট এলাকার একটি হোটেলের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর কলকাতা পৌরসভা ও দমকলের যৌথ উদ্যোগে মধ্য কলকাতার বিভিন্ন হোটেল এবং গেস্ট হাউসের নিরাপত্তা খতিয়ে দেখা হয়েছিল এবং একাধিক প্রতিষ্ঠানকে বন্ধের নোটিস দেওয়া হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতাতেই এ বার বড় শপিং মলগুলির অন্দরে এই নজরদারি শুরু হলো।
অন্যদিকে, সাউথ সিটি মলের আধিকারিক দীপ বিশ্বাস জানিয়েছেন, তাঁদের মলে পর্যাপ্ত অগ্নিসুরক্ষা ব্যবস্থা ও মোকাবিলার পরিকাঠামো রয়েছে। সমস্ত সিঁড়ি ও দরজা সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রাখা হয় বলেও তিনি জানান। পাশাপাশি, দমকল বিভাগের তরফে ভবিষ্যতে যে কোনো নির্দেশ বা পরামর্শ দেওয়া হলে তা পুরোপুরি পালন করা হবে বলে শপিং মল কর্তৃপক্ষের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

