সমাজমাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু আইপিএস ও আইএএস আধিকারিককে নিয়ে বিতর্কিত পোস্ট করার জেরে এ বার তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে জামিন-অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু হলো। আগামী শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর কৃষ্ণনগরের এই সাংসদকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার সাইবার ক্রাইম থানায় হাজিরার জন্য তলব করা হয়েছে।
মামলার প্রেক্ষাপট ও অভিযোগ পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর ১৯৬, ১৯৭, ২৯৯ এবং ৩৫৩ ধারায় মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে। গত ১ সেপ্টেম্বর উত্তরবঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের একটি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কয়েকজন আইপিএস ও আইএএস আধিকারিকের নাম উল্লেখ করে সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট করেছিলেন তিনি। পোস্টে শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার ওয়াকার রাজা, এসটিএফ-এর ডিজি জাভেদ শামিম এবং আইএএস খলিল আহমেদ—এই তিনজনের নাম উল্লেখ করে তাঁর অভিযোগ ছিল, ইচ্ছাকৃতভাবেই সংখ্যালঘু প্রশাসনিক ও পুলিশ আধিকারিকদের ওই কর্মসূচি থেকে ব্রাত্য বা বাদ রাখা হয়েছিল।
এই পোস্টের জেরে সাম্প্রদায়িক উস্কানি ছড়ানোর অভিযোগ তুলে ডায়মন্ড হারবার সাইবার ক্রাইম থানায় একটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই আগামী ৫ সেপ্টেম্বর শনিবার সকাল ১১টায় তাঁকে থানায় হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এই নতুন আইনি পদক্ষেপের পর এখনও পর্যন্ত সাংসদ মহুয়া মৈত্রের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
পূর্ববর্তী আইনি জটিলতা সাম্প্রদায়িক উস্কানি ও বিতর্কিত মন্তব্য সংক্রান্ত অভিযোগে এর আগেও আইনি জটিলতায় পড়েছেন এই তৃণমূল সাংসদ। মাত্র কয়েক দিন আগেই নদিয়ার হোগলবাড়ি থানায় অনুরূপ একটি মামলায় তাঁকে তলব করা হয়েছিল। সেখানে হাজিরা দিয়ে প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাঁকে।

