তিন বছর পর আবারও মর্যাদাপূর্ণ ডুরান্ড কাপের ফাইনালে মুখোমুখি হতে চলেছে দুই প্রধান—মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল। বৃহস্পতিবার শিলংয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে প্রথম সেমিফাইনালে স্বাগতিক নর্থইস্ট ইউনাইটেড এফসি-কে টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে পরাস্ত করে ফাইনালে নিজেদের স্থান নিশ্চিত করে মোহনবাগান। আগামী রবিবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ট্রফি জয়ের লড়াইয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লাল-হলুদের মুখোমুখি হবে সবুজ-মেরুন। উল্লেখ্য, তিন বছর আগে দিমিত্রি পেত্রাতোসের একমাত্র গোলে ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়েই ১৭তম বার ডুরান্ড ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছিল মোহনবাগান, যা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ১৬ বারের ডুরান্ড জয়ী ইস্টবেঙ্গলের সামনে এবার সেই হারের বদলা নেওয়ার সুযোগ।
এই জয়ের মাধ্যমে দু’বছর আগের হিসাবও সমান করল মোহনবাগান। সেবার টাইব্রেকারেই নর্থইস্টের কাছে হেরে টানা দু’বার ডুরান্ড কাপ জয়ের স্বপ্ন চূর্ণ হয়েছিল তাদের। বৃহস্পতিবার শিলংয়ের ঘরের মাঠে নর্থইস্ট সমর্থকদের প্রবল চিৎকারের মাঝেই জয়ের নায়ক হয়ে ওঠেন মোহনবাগান গোলরক্ষক বিশাল কাইথ। কোয়ার্টার ফাইনালে জামশেদপুরের বিরুদ্ধে একটি শট রুখে জয়ের কাণ্ডারি হওয়া বিশাল, সেমিফাইনালে টাইব্রেকারে পর পর দুটি শট বাঁচিয়ে দলকে ফাইনালে তোলেন।
উত্তেজনাপূর্ণ টাইব্রেকার
নির্ধারিত ৯০ মিনিটে গোলশূন্য থাকার পর ম্যাচ গড়ায় পেনাল্টি শুটআউটে। নর্থইস্টের হয়ে প্রথম শটে গোল করে নিনকোভিচ দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। মোহনবাগানের হয়ে সমতা ফেরান রাহুল ভেকে। এরপর নর্থইস্টের আলাদিনের শট বিশাল কাইথের হাত ছুঁয়ে গোলে ঢুকলে তারা ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তী শটে শুভাশিস বসু গোল করে আবার ২-২ সমতা ফেরান। নর্থইস্টের এথিয়েন ৩-২ করলে মোহনবাগানের লিস্টন কোলাসো শট জালে জড়িয়ে ব্যবধান ৩-৩ করেন।
চতুর্থ শটে নাটকীয় মোড় নেয় ম্যাচ। নর্থইস্টের রবিন যাদবের শট বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে দুর্দান্তভাবে আটকে দেন বিশাল। এরপর চতুর্থ শটে জেমি ম্যাকলারেন গোল করলে মোহনবাগান ৪-৩ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পঞ্চম প্রচেষ্টায় নর্থইস্টের পার্থিব গগৈয়ের শট আবারও বিশাল বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে রুখে দিতেই মোহনবাগানের জয় সুনিশ্চিত হয়।
ম্যাচের বিবরণ
ম্যাচের আগে প্রবল বৃষ্টির কারণে মাঠের বিভিন্ন জায়গায় জল জমে গিয়েছিল, ফলে বলের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হয় এবং দুই দলেরই স্বাভাবিক পাসিং ফুটবল খেলতে সমস্যা হয়।
মোহনবাগানের কোচ পানাজিয়োটিস দিমপেরিস প্রথম একাদশে দুই বিদেশি আলবের্তো রদ্রিগেজ ও সামির জেলকোভিচকে নামান। দেজান দ্রাজিচ চোটের কারণে অনুপস্থিত থাকায় শুরু থেকেই খেলেন কিয়ান নাসিরি। ম্যাচের শুরুর দিকে ১০ মিনিটের মাথায় নাসিরির বাড়ানো বলে লিস্টন শট নেওয়ার আগেই তা বিপদমুক্ত করেন নর্থইস্টের ডিফেন্ডার মহম্মদ রাবিহ।
প্রথমার্ধে মোহনবাগানের দখলে বলের নিয়ন্ত্রণ বেশি থাকলেও সুযোগ তৈরির দিক থেকে এগিয়ে ছিল নর্থইস্ট। ৩৬ মিনিটের মাথায় সামির দুজন ডিফেন্ডারকে ড্রিবল করে এগোলেও জমে থাকা জলের কারণে গতি হারিয়ে বল আটকে যায়। খেলার মাঝে নর্থইস্টের ম্যাকার্টন ও নিকসনের সঙ্গে মোহনবাগানের ফুটবলারদের সাময়িক বাদানুবাদ সৃষ্টি হলেও রেফারি সময়মতো হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি সামাল দেন।
দ্বিতীয়ার্ধেও গোল করার বেশ কয়েকটি সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করে নর্থইস্ট। ৬৩ ও ৮৬ মিনিটের মাথায় নর্থইস্টের আলাদিন ও ম্যাকার্টনের একাধিক আক্রমণ লক্ষ্যের সামান্য বাইরে দিয়ে চলে যায়। গোল তুলে নিতে ৭১ মিনিটে সামিরের জায়গায় মিগুয়েল ফেরেরা এবং ৮০ মিনিটে মনবীর সিংহের বদলে লালিয়ানজুয়ালা ছাংতেকে নামান মোহনবাগান কোচ। তবে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত কোনো দলই ডেডলক ভাঙতে না পারায় ম্যাচের সিদ্ধান্ত হয় টাইব্রেকারে।

