কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ড ঘিরে শুরু রাজনৈতিক তরজা: শুভেন্দুর ‘তৃণমূল জমানার অবহেলা’ কটাক্ষের জবাবে পুরবোর্ডের ব্যর্থতাকে বিঁধলেন কুণাল ঘোষ

কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ড ঘিরে শুরু রাজনৈতিক তরজা: শুভেন্দুর ‘তৃণমূল জমানার অবহেলা’ কটাক্ষের জবাবে পুরবোর্ডের ব্যর্থতাকে বিঁধলেন কুণাল ঘোষ

রাজধানী কলকাতার একটি হোটেলে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের পর তার দায়-দায়িত্ব নিয়ে চরম রাজনৈতিক বাকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ল রাজ্য সরকার ও বিরোধী দল। অগ্নিকাণ্ডের এই মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক দল বিজেপি এবং প্রধান বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা একে অপরের প্রতি কড়া অভিযোগে সরব হয়েছেন।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রাজ্যের বিগত তৃণমূল জমানার গাফিলতিকে কাঠগড়ায় তুলে সোশাল মিডিয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি অভিযোগ করে লেখেন, “বছরের পর বছর ধরে কোনো প্রকার নিয়ন্ত্রণ ছাড়া কলকাতা তথা রাজ্যজুড়ে বেআইনি পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। অগ্নিসুরক্ষাসংক্রান্ত যাবতীয় নিয়মবিধি উপেক্ষা করেই একের পর এক ভবন গড়ে উঠেছে এবং সেগুলিকে হোটেল ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।”

মুখ্যমন্ত্রী আরও দাবি করেন, “বিগত তৃণমূল সরকার এই জাতীয় গুরুতর বিষয়গুলি থেকে নজর ঘুরিয়ে রেখেছিল এবং প্রাথমিক সুরক্ষা সংক্রান্ত অডিট সম্পন্ন করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। যার ফলে এই বিপজ্জনক পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করার সুযোগ পেয়েছে।” অতীতে তৈরি হওয়া এই সমস্ত ক্ষতের মেরামত করা এবং সুরক্ষাবিধি সঠিকভাবে বলবৎ করতে তাঁর সরকার কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রীর এই অভিযোগের জবাবে পাল্টা প্রশ্ন তুলে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। শহর ও কেন্দ্রীয় প্রশাসনের দায়িত্বে বিজেপি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “খাস কলকাতায় এবার ‘বার্নিং’ হোটেল। একশো দিনের কাজের হিসাব চেয়ে রিপোর্ট দিয়ে বলা হচ্ছে আমরা এই করেছি। কিন্তু এই ঘটনার দায় বর্তমান প্রশাসন নেবে না কেন?”

কুণাল ঘোষ আরও বলেন, “বর্তমানে কলকাতা পুরসভায় কোনো নির্বাচিত পুরবোর্ড নেই, প্রশাসক বসিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে। কেন্দ্রে বিজেপি সরকার, রাজ্যেও বিজেপি সরকার এবং কলকাতা পুরবোর্ডও বর্তমানে বিজেপির নিয়ন্ত্রণে। আর যাঁরা প্রাক্তন মেয়র বা প্রাক্তন মন্ত্রী ছিলেন, তাঁরা এখন বিজেপি শিবিরে গিয়ে তৃণমূলের দিকে আঙুল তুলছেন কেন?”

ঘটনাস্থলের সুরক্ষাব্যবস্থা নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে তৃণমূল বিধায়ক বলেন, “এই ঘটনা অত্যন্ত অনভিপ্রেত ও অবাঞ্ছিত। যাঁরা এই ঘটনার জন্য দায়ী, তাঁদের কঠোর শাস্তি পাওয়া উচিত। এটি রাজনীতি করার বিষয় নয়। এর আগে তারাপীঠের অগ্নিকাণ্ডেও দেখা গিয়েছিল মানুষজনকে দ্রুত সতর্ক করে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা যায়নি।”

অতীতে গঠিত তদন্ত কমিটির কার্যকরিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। কুণাল ঘোষ জানান, “এর আগেও এমন ঘটনা ঘটার পর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করার কথা শোনা গিয়েছিল। সেই কমিটির সদস্যরা কী কাজ করলেন? তাঁদের রিপোর্টেই বা কী ছিল? ওই কমিটিতে ববি হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, জাভেদ খানের মতো তৎকালীন ব্যক্তিত্বরা ছিলেন। সেই রিপোর্ট অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।”

অগ্নিকাণ্ডের মতো সংবেদনশীল ঘটনাকে কেন্দ্র করে একদিকে প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগ এবং অন্যদিকে বর্তমান পুরবোর্ড ও সরকারের দায়বদ্ধতা নিয়ে দু’পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক তরজায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.