ব্যাঙ্ক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তায় লালবাজারের নতুন পদক্ষেপ: ১০ দফা নির্দেশিকা জারি পুলিশ কমিশনারের

ব্যাঙ্ক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তায় লালবাজারের নতুন পদক্ষেপ: ১০ দফা নির্দেশিকা জারি পুলিশ কমিশনারের

কলকাতার ব্যাঙ্ক ও বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে শহরের প্রতিটি থানার অফিসার ইন-চার্জ (OC)-দের ওপর বাড়তি দায়িত্ব আরোপ করলেন কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দ। বৃহস্পতিবার লালবাজারের পক্ষ থেকে এই সংক্রান্ত একটি বিশদ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে, যেখানে কমিশনারের ১০ দফা কড়া নির্দেশের কথা উল্লেখ রয়েছে।

নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, এতদিন ব্যাঙ্কের বাইরের নিরাপত্তা ও নিয়মিত নজরদারির দায়িত্ব লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগের ডাকাতিবিরোধী শাখার সদস্যদের ওপর ন্যস্ত থাকলেও, এখন থেকে সেই দায়িত্ব পালন করবেন স্থানীয় থানার পুলিশকর্মীরা। নিজ নিজ এলাকার ব্যাঙ্কগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রতিনিয়ত পর্যালোচনা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি-দের।

নিরাপত্তা পুনর্গঠনের কারণ

লালবাজার সূত্রে খবর, সাম্প্রতিককালে অর্থনৈতিক প্রতারণা এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক অপরাধ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণেই এই অতিরিক্ত সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। নতুন এই ব্যবস্থার অধীনে কেবল ব্যাঙ্ক চলাকালীন বা লেনদেনের সময়ই নয়, ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকার সময়ও পুলিশি নজরদারি অব্যাহত রাখতে বলা হয়েছে। ব্যাঙ্ক খোলা ও বন্ধ হওয়ার বিশেষ মুহূর্ত সহ অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ সময়গুলি চিহ্নিত করে পুলিশি টহল নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে নিরাপত্তার কোনো ফাঁক গলে কোনো অপরাধ ঘটতে না পারে।

পুলিশ কমিশনারের ১০ দফা নির্দেশিকা

ওসি-দের উদ্দেশ্যে জারি করা লালবাজারের নির্দেশিকায় মূলত যে ১০টি বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে:

  • নিয়মিত টহল ও পরিদর্শণ: টহলরত পুলিশকর্মীরা প্রতিদিন নিয়ম করে বিভিন্ন ব্যাঙ্ক পরিদর্শন করবেন।
  • নিরাপত্তা নিরীক্ষা: নির্দিষ্ট সময় অন্তর ব্যাঙ্কগুলির সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা যাচাই করে দেখতে হবে।
  • পরিকাঠামো পরীক্ষা: প্রতিটি ব্যাঙ্কে পর্যাপ্ত ও দক্ষ নিরাপত্তারক্ষী রয়েছেন কিনা, সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরাগুলি সচল কিনা এবং আপৎকালীন অ্যালার্ম (Emergency Alarm) সঠিকভাবে কাজ করছে কিনা তা নিশ্চিত করতে হবে।
  • সন্দেহজনক গতিবিধিতে নজর: ব্যাঙ্ক প্রাঙ্গণ বা তার আশপাশে কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি বা যানবাহনের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেলে তার ওপর কড়া নজর রাখতে হবে।
  • সমন্বয় রক্ষা: ব্যাঙ্কের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক ও নিরাপত্তারক্ষীদের সাথে স্থানীয় পুলিশকে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখতে হবে।
  • তথ্য আদান-প্রদান: কোনো প্রকার ডাকাতি বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের আগাম সঙ্কেত বা গোপন তথ্য পেলে তৎক্ষণাৎ তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে।
  • গোয়েন্দা বিভাগের নতুন ভূমিকা: গোয়েন্দা বিভাগের ডাকাতিবিরোধী শাখা এখন থেকে মূলত অপরাধ সংক্রান্ত গোপন তথ্য সংগ্রহ, ডেটা বিশ্লেষণ এবং অপরাধী শনাক্তকরণের মতো বিশেষ কাজে নজর দেবে। পাশাপাশি প্রয়োজনে স্থানীয় থানাগুলিকে বিশেষজ্ঞ সহায়তা প্রদান করবে।
  • যৌথ সমন্বয়: পরিচিত অপরাধী ও অপরাধের ধরন সংক্রান্ত তথ্য নিয়মিত গোয়েন্দা বিভাগ ও স্থানীয় থানাগুলির মধ্যে আদান-প্রদান করা হবে।
  • উচ্চপদস্থ কর্তাদের নজরদারি: সংশ্লিষ্ট এলাকার সহকারী কমিশনার (AC) এবং ডেপুটি কমিশনার (DC)-রা নিজ নিজ এক্তিয়ারভুক্ত ব্যাঙ্কগুলির টহলদারি তদারকি ও পর্যালোচনা করবেন।
  • অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা: কোনো বিশেষ উৎসব, অনুষ্ঠান কিংবা বড় অঙ্কের নগদ লেনদেনের ক্ষেত্রে অপরাধের আশঙ্কা থাকলে সংশ্লিষ্ট থানা সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করবে এবং প্রয়োজনে গোয়েন্দা বিভাগের সাথে পরামর্শ করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.