নদিয়ার নাকাশিপাড়ায় কংগ্রেসকর্মী আনিসুর রহমান ও তাঁর পুত্র আবুকে নির্মমভাবে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে পুলিশ হরনগর পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান ফতেমা বিবিসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। রবিবার কৃষ্ণনগর আদালতে তোলা হলে বিচারক ধৃতদের ৯ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।
রেলগেটের কাছে প্রাণঘাতী হামলা: পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাতে চারচাকার গাড়িতে চেপে বেথুয়াডহরি থেকে বাড়ি ফিরছিলেন আনিসুর রহমান ও তাঁর ছেলে আবু। বেথুয়াডহরি রেলগেটের কাছে পৌঁছাতেই আততায়ীরা হামলা চালায়। অভিযোগ, পরপর দুটি বোমা মেরে গাড়িটিকে প্রথমে থামানো হয়। গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারালে খুব কাছ থেকে পরপর কয়েক রাউন্ড গুলি চালানো হয়। মৃত্যু নিশ্চিত করতে গাড়ি থেকে নামিয়ে তাঁদের ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপানো হয়, যার ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়।
জেল থেকে ছক ও গ্রেফতারি: হত্যাকাণ্ডের তদন্তে রবিবার সকালে হরনগর পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান ফতেমা বিবি এবং তাঁর দুই সহযোগী সাহেব আলি মণ্ডল ও মিঠুন শেখকে গ্রেফতার করে পুলিশ। অভিযোগ, এলাকায় প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা জুব্বার শেখ বর্তমানে জেলবন্দি থাকলেও সেখান থেকেই এই জোড়া খুনের ছক কষেছিলেন। ধৃত ফতেমা বিবি জুব্বার শেখের স্ত্রী।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, কয়েকদিন ধরে ওই এলাকায় রেকি চালিয়ে আনিসুরের যাতায়াতের রুট নিখুঁতভাবে বুঝে নিয়েছিল বন্দুকবাজেরা। আনিসুর নিয়মিত রাত ৮টার পর ওই নির্জন পথ দিয়ে যাতায়াত করতেন। গুলি চালানোর পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিরা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করাই ছিল হামলকারীদের মূল পরিকল্পনা।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত: এই ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়িয়েছে। সাংবাদিক বৈঠকে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “প্রাথমিক ভাবে এসপি আমাকে যা জানিয়েছেন, ওখানে জুব্বার শেখ জেলে আছে এবং জেল থেকেই পুরো বিষয়টি করিয়েছে। জুব্বার শেখের স্ত্রীও গ্রেফতার হয়েছেন, যিনি তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধান।”
অন্য দিকে, নিহতদের পরিবারের আর্জি এবং জেলা কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবির প্রেক্ষিতে ফরেনসিক প্রমাণের মূল্যায়নের জন্য দেহ দুটি শক্তিনগর জেলা হাসপাতাল থেকে কল্যাণী জওহরলাল নেহরু মেমোরিয়াল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রবিবার নিহতদের শেষ শ্রদ্ধা জানাতে শক্তিনগর হাসপাতালে পৌঁছান প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার।

