‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় তীব্র আক্রমণের মুখে পড়ে বাধ্য হয়ে ভারতের কাছে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল পাকিস্তান। তবে পাকিস্তান জরুরিভিত্তিতে যুদ্ধবিরতি চাইলেও, সাড়া দেওয়ার আগে ইসলামাবাদকে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষায় রেখেছিল নয়াদিল্লি। সম্প্রতি এক বক্তব্যে ভারতের প্রাক্তন চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ (সিডিএস) জেনারেল অনিল চৌহান এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ্যে এনেছেন। ভারতের পরিকল্পনা অনুযায়ী পাকিস্তানি সামরিক ঘাঁটিতে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার বাকি অংশ সম্পন্ন করতেই এই সময় নেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।
পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসী হামলার কড়া জবাব দিতে গত বছরের ৭ মে পাকিস্তান ও পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে অবস্থিত সন্ত্রাসী আস্তানাগুলিতে সামরিক অভিযান শুরু করে ভারত। প্রথমদিকে কেবল সন্ত্রাসী কেন্দ্রগুলিই লক্ষ্যবস্তু হলেও, পাকিস্তান পাল্টা হামলার চেষ্টা করলে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী সামরিক স্তরে তীব্র প্রত্যাঘাত শুরু করে। চার দিন ধরে চলা এই সংঘাতের একপর্যায়ে আকাশসীমার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ চলে আসে ভারতীয় বিমানবাহিনীর হাতে।
জেনারেল চৌহানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতের চতুর্থ দিন (১০ মে) সকাল আনুমানিক সাড়ে ৯টা নাগাদ পাকিস্তানের ডিরেক্টর জেনারেল অব মিলিটারি অপারেশনস (ডিজিএমও) হটলাইনের মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ করে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির অনুরোধ জানান। কিন্তু ভারত তৎক্ষণাৎ সেই প্রস্তাবে রাজি না হয়ে দুপুর পর্যন্ত সময় নেয়। প্রাক্তন সিডিএস জানান, এই সিদ্ধান্তটি কৌশলগতভাবে নেওয়া হয়েছিল। কারণ পাকিস্তান ভূখণ্ডে ভারতের প্রত্যাঘাতের যে পরিকল্পনা ছিল, ততক্ষণে তার মাত্র অর্ধেক বাস্তবায়িত হয়েছিল। নয়াদিল্লি চেয়েছিল আলোচনার টেবিলে বসার আগেই বাকি থাকা সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলি ধ্বংস করে দিতে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ৯ মে পাকিস্তান হুংকার দিয়েছিল যে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তারা ভারতকে দেখে নেবে। কিন্তু সেদিন রাত থেকেই পরিস্থিতির মোড় ঘুরে যায়। ৯ মে রাত থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডির নূর খান ঘাঁটি এবং ভোল্লারিসহ অন্তত ১১টি প্রধান সামরিক ঘাঁটিতে সফল হামলা চালায় ভারত। এতে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর একাধিক হ্যাঙ্গার, রাডার সাইট এবং বেশ কয়েকটি যুদ্ধবিমান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার মেরামত কাজ এখনো চালিয়ে যাচ্ছে ইসলামাবাদ।
জেনারেল চৌহান জানান, সীমান্ত অতিক্রম না করেই ভারতের দূরপাল্লার সুনির্দিষ্ট ও নিখুঁত আক্রমণের ক্ষমতা এবং বিমানবাহিনীর একচ্ছত্র প্রভাব পাকিস্তানকে কোণঠাসা করে ফেলেছিল। পাকিস্তান বুঝতে পেরেছিল যে সংঘাত অব্যাহত থাকলে তাদের আরও অপূরণীয় ক্ষতি ও নিশ্চিত পরাজয়ের মুখোমুখি হতে হবে। সেই বাধ্যবাধকতা থেকেই চরম ব্যর্থতা ঢাকতে তড়িঘড়ি যুদ্ধবিরতি চাইতে বাধ্য হয় পাকিস্তান।

