মাইসুরুর রামকৃষ্ণ আশ্রমের মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী: বিতর্ক ও বিরোধীদের কটাক্ষের আবহেই যুবশক্তির প্রশংসা মোদীর

মাইসুরুর রামকৃষ্ণ আশ্রমের মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী: বিতর্ক ও বিরোধীদের কটাক্ষের আবহেই যুবশক্তির প্রশংসা মোদীর

দিল্লিতে যন্তর মন্তরে টানা ৩৬ দিনের টানা ছাত্র-যুব আন্দোলনের অস্বস্তি এবং বিরোধী দলগুলির তীক্ষ্ণ আক্রমণের আবহেই দেশের তরুণ প্রজন্মের ওপর নিজের আস্থার কথা পুনর্ব্যক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সমাজমাধ্যমে দেওয়া ভিডিও বার্তার বিতর্ক কাটিয়ে শনিবার কর্ণাটকের মাইসুরুতে শ্রীরামকৃষ্ণ আশ্রমের মঞ্চ থেকে দেশের প্রগতি ও উন্নয়নে যুবসমাজের অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।

সম্প্রতি যন্তর মন্তরে বকেয়া ক্ষোভ, চাকরির সুযোগের অভাব, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের প্রতিবাদে সরব হওয়া শিক্ষার্থীদের লাগাতার আন্দোলনের চাপে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে হয়েছে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে। যদিও আন্দোলনের রেশ স্তিমিত হলেও রাজনৈতিক জট কাটেনি। তার মধ্যেই শুক্রবার রাতে ইনস্টাগ্রাম রিলে তরুণদের উদ্দেশে দেওয়া ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ জানান, যন্তর মন্তরের বিক্ষোভ থেকে তাঁকে উদ্দেশ্য করে অশ্রাব্য গালিগালাজ করা হয়েছে। তবে ‘ছোটবেলার ভুল’ হিসেবে বর্ণনা করে আন্দোলনকারীদের তিনি ক্ষমা করে দিয়েছেন বলেও দাবি করেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই ‘ক্ষমা’ প্রদর্শনের বার্তা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিরোধী নেতৃত্ব ও ছাত্র সংগঠনগুলি। সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ প্রশ্ন তুলেছেন, ক্ষমা যদি সত্যিই দেওয়া হয়ে থাকে, তবে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলি কি প্রত্যাহার করা হবে? অন্যদিকে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী কটাক্ষ করে জানান, “শিক্ষার্থীদের প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ক্ষমার প্রয়োজন নেই, বরং সার্বিক পরিস্থিতির জন্য মোদীরই উচিত দেশের যুবসমাজের কাছে ক্ষমা চাওয়া।”

এই চাপানউতোরের মাঝেই শনিবার মাইসুরুর মঞ্চকে বেছে নিয়ে ভারতের অগ্রযাত্রায় তরুণদের ভূমিকা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আজ বিশ্বমঞ্চে ভারতের অর্থনীতি দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এই সাফল্যের মূল চালিকাশক্তি হলো এ দেশের যুবসমাজের মেধা, শক্তি ও সম্ভাবনা।” ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর মতো উদ্যোগের সাফল্য তরুণদের কাঁধে ভর করেই এসেছে উল্লেখ করে তিনি জানান, ভারতের বিশ্বতলে দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল উৎপাদনকারী দেশ হয়ে ওঠার পেছনেও রয়েছে এই তরুণ প্রজন্মই।

শিক্ষাব্যবস্থার আমূল আধুনিকীকরণের ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে ১৪ হাজারেরও বেশি ‘পিএমশ্রী’ (PM-SHRI) স্কুল গড়ে তোলা হয়েছে, যার লক্ষ্য কেবল পাঠ্যপুস্তকীয় বিদ্যা নয়, শিশুদের উদ্ভাবনী মানসিকতাকে বিকাশ ঘটানো। এছাড়া দেশে মেডিক্যাল কলেজের সংখ্যা বাড়িয়ে ৮২৩টি করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। যুগোপযোগী শিক্ষা ও উন্নত পরিকাঠামো গঠনের মাধ্যমে দেশের তরুণদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.