পাকিস্তানি স্পিনার উসমান তারিকের বোলিং অ্যাকশন ঘিরে বিতর্ক যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না। এবার ‘দ্য হান্ড্রেড’ লিগে তাঁর বলে আউট হয়ে তারিকের বোলিং অ্যাকশনের বৈধতা নিয়ে সরাসরি মাঠেই প্রশ্ন তুললেন অস্ট্রেলিয়ার অলরাউন্ডার টিম ডেভিড।
ঘটনাটি ঘটে ট্রেন্ট রকেটস ও বার্মিংহ্যাম ফিনিক্সের মধ্যকার ম্যাচ চলাকালীন। ট্রেন্ট রকেটসের হয়ে খেলা টিম ডেভিড, তারিকের একটি বল ডিফেন্ড করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ আউট হন। আউট হওয়ার পরপরই ডেভিড আম্পায়ারের দিকে তাকিয়ে হাতের ইশারায় বলটি ‘নো বল’ ডাকার দাবি জানান। এমনকি তিনি আম্পায়ারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে রিভিউ নেওয়ার উদ্যোগও নেন, যদিও পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করে তিনি সাজঘরে ফিরে যান। তবে তাঁর অঙ্গভঙ্গি থেকে স্পষ্ট ছিল যে, তিনি তারিকের বোলিং অ্যাকশনকে ‘চাকিং’ বা অবৈধ বলেই দাবি করছিলেন।
উসমান তারিকের বোলিং অ্যাকশন বেশ নজরকাড়া ও ব্যতিক্রমী। বল ছাড়ার ঠিক আগের মুহূর্তে তিনি কয়েক মুহূর্তের জন্য সম্পূর্ণ থমকে যান এবং এই এক সেকেন্ডের বিরতির পর বলটি ডেলিভারি করেন। বোলিংয়ের এই ভঙ্গিমা প্রায়শই প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের বিভ্রান্তিতে ফেলে এবং এই কারণেই বারবার তাঁর অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এর আগেও আন্তর্জাতিক মঞ্চে একাধিকবার তারিকের অ্যাকশন নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে:
- ক্যামেরন গ্রিনের আপত্তি: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে অস্ট্রেলিয়া ও পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সিরিজে উসমান তারিকের বলে আউট হয়ে সাজঘরে ফেরার সময় একইভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার অপর ব্যাটার ক্যামেরন গ্রিন। তিনি তারিকের ডেলিভারি করার ভঙ্গি নকল করে ইঙ্গিত করেছিলেন যে বলটি ছোড়া হয়েছে।
- পাকিস্তান সুপার লিগে (PSL) অভিযোগ: ২০২৪ ও ২০২৫ সালের পিএসএল আসরে একাধিক আম্পায়ার তারিকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে রিপোর্ট জমা দিয়েছিলেন। ২০২৪ সালে অন-ফিল্ড আম্পায়ার আসিফ ইয়াকুব ও রিচার্ড ইলিংওয়ার্থ এবং ২০২৫ সালে আম্পায়ার আহসান রাজা ও ক্রিস ব্রাউন তাঁর বোলিং অ্যাকশন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে প্রতিবেদন দেন।
তারিকের ব্যাখ্যা ও চিকিৎসাগত ছাড়পত্র: ধারাবাহিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে লাহোরের জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমির (NCA) বায়োমেকানিক্স ল্যাবে দু’বার বোলিং অ্যাকশন পরীক্ষা দিতে হয়েছে উসমান তারিককে। তবে উভয় পরীক্ষাতেই তাঁর অ্যাকশনে কোনো ত্রুটি পাওয়া যায়নি এবং ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে তাঁকে খেলার পূর্ণ ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
নিজের শারীরবৃত্তীয় গঠন ও বিতর্কের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তারিক বলেন, “আমার হাতে জন্মগতভাবেই দু’টি কনুইয়ের মতো বিশেষ গঠন রয়েছে, যার কারণে বোলিংয়ের সময় হাত বাঁকা মনে হয়। আমি ল্যাবে সব ধরনের পরীক্ষা দিয়ে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করেছি এবং আনুষ্ঠানিকভাবে খেলার অনুমতি পেয়েছি। তা সত্ত্বেও বারবার সবাই মনে করেন আমি বল ছুড়ছি। এটি মূলত আমার একটি শারীরিক সীমাবদ্ধতা।”
আইনি ও প্রযুক্তিগতভাবে সবুজ সংকেত থাকা সত্ত্বেও, বৈশ্বিক ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোতে তারিকের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের অভিযোগ ক্রিকেট মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিচ্ছে।

