আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সফরে ব্যর্থতার গ্লানি মুছে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আবার রাজকীয় প্রত্যাবর্তন ঘটাল বিশ্বসেরা ভারত। জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ৩-০ ব্যবধানে জিতে প্রতিপক্ষকে চুনকাম করল ভারতীয় দল। নতুন অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ারের নেতৃত্বে এটি ভারতের প্রথম দাপুটে সিরিজ জয়। একইসঙ্গে প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরের অনুপস্থিতিতে অস্থায়ী কোচ ভিভিএস লক্ষ্মণের অধীনে জয়ের সরণিতে ফিরল দল।
সিরিজের শেষ ও নির্ণায়ক ম্যাচে টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ভারত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটের বিনিময়ে ১৯২ রানের বিশাল স্কোর দাঁড় করায়। জয়ের জন্য ১৯৩ রানের লক্ষ্যে তাড়া করতে নেমে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৫৭ রানেই থমকে যায় জিম্বাবোয়ের ইনিংস। ৩৫ রানের জয়ে সিরিজের ট্রফি নিজেদের নামে করে ভারত।
ব্যাট হাতে ১৫ বছরের বৈভবের ঝড়: ভারতের জয়ের প্রধান রূপকার ১৫ বছর বয়সী উদীয়মান ব্যাটার বৈভব সূর্যবংশী। ওপেনার অভিষেক শর্মা মাত্র ২ রান করে ব্লেসিং মুজারাবানির বলে দ্রুত আউট হলেও বৈভব অন্য প্রান্তে আক্রমণাত্মক ভূমিকা নেন। প্রথম বলেই চার মেরে ইনিংস শুরু করা বৈভব ৪৯ বলে ৮১ রানের একটি দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। তাঁর এই দায়িত্বশীল ইনিংসে ছিল ৮টি চার ও ৪টি ছক্কা।
সঙ্গী ঈশান কিষাণ চব্বিশ ঘণ্টা আগে অর্ধশতরান করলেও এই ম্যাচে ২৯ রান করে বিদায় নেন। অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার ২৭ রান করে আশাব্যঞ্জক সূচনাকে বড় রানে রূপ দিতে ব্যর্থ হন। তবে শেষ দিকে রিঙ্কু সিং মাত্র ১৪ বলে ২৫ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে দলের স্কোরকে ১৯২ রানে পৌঁছে দেন।
মায়াঙ্ক যাদবের দুরন্ত বোলিং ও জিম্বাবোয়ের প্রতিরোধ: ১৯৩ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ভারতীয় পেসারদের দাপটে ব্যাকফুটে চলে যায় জিম্বাবোয়ে। পেসার মায়াঙ্ক যাদব নিজের প্রথম বলেই প্রতিপক্ষ ওপেনার ব্রায়ান বেনেটকে শূন্য রানে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান। পাওয়ার প্লে-র মধ্যেই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় স্বাগতিকরা।
জিম্বাবোয়ের শেষ দিকের ব্যাটার রায়ান বার্ল একাই প্রতিরোধ গড়ে ৫৪ রান করলেও দলকে জয়ের কাছাকাছি নিয়ে যেতে পারেননি। ভারতের হয়ে গতিময় পেসার মায়াঙ্ক যাদব ২৯ রান দিয়ে ৩টি উইকেট শিকার করেন। অপর পেসার যশ ঠাকুর ২টি এবং অশোক শর্মা ও রবি বিষ্ণোই ১টি করে উইকেট পান।
সিরিজ জয়েও চিন্তা ক্যাচ ফেলার প্রবণতা: ধারাবাহিক জয়ে সিরিজ পকেটে পুরলেও ফিল্ডিংয়ে ক্যাচ ফেলার প্রবণতা ভারতীয় শিবিরকে ভাবিয়ে তুলছে। এই ম্যাচেও ভারতীয় ফিল্ডাররা মোট ৫টি সহজ ক্যাচ হাতছাড়া করেন। পুরো তিন ম্যাচের সিরিজে সর্বমোট ১০টি ক্যাচ মিস হয়েছে, যা সিরিজ জয়ের আনন্দের মাঝেও সমর্থকদের উদ্বেগ বাড়িয়ে রাখছে।

