রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী প্রয়াত বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের পাম অ্যাভিনিউয়ের বাসভবনের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করল শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বর্তমান রাজ্য সরকার। বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে নিরাপত্তারক্ষীর সংখ্যা। গত ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় তৎকালীন তৃণমূল সরকারের আমলে এই নিরাপত্তা কিছুটা কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল। রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর বিষয়টি নিয়ে নবান্নের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সিপিআই(এম)। তার পরেই এই পদক্ষেপ করল প্রশাসন।
নির্বাচনের আগে নিরাপত্তা হ্রাস, রাতে অরক্ষিত ছিল বাড়ি
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের পাম অ্যাভিনিউয়ের বাড়ির নিরাপত্তা সংক্রান্ত কিছু নির্দিষ্ট প্রোটোকল বা নিয়ম রয়েছে। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট বুদ্ধদেবের প্রয়াণের পর থেকে ওই বাড়িতে বর্তমানে একাই থাকেন তাঁর স্ত্রী মীরা ভট্টাচার্য।
আগে ওই বাড়ির নিরাপত্তার দায়িত্বে ২৪ ঘণ্টার জন্য তিনজন রক্ষী মোতায়েন থাকতেন। তাঁরা পালা করে দিনে ৮ ঘণ্টা করে ডিউটি করতেন। অর্থাৎ, দিন থেকে রাত— সর্বক্ষণই পাম অ্যাভিনিউয়ের বাড়ির সামনে নিরাপত্তা বলয় থাকত। কিন্তু বিগত বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই সেখানে রক্ষীর সংখ্যা তিন থেকে কমিয়ে দুই করে দেয় তৎকালীন তৃণমূল প্রশাসন। এর ফলে রাতে ওই বাড়িতে আর কোনো পাহারার ব্যবস্থা ছিল না, যা মীরা ভট্টাচার্যের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছিল।
নবান্নে সেলিমের আর্জি, ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পদক্ষেপ সরকারের
মীরা ভট্টাচার্যের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে সিপিআই(এম)-এর পক্ষ থেকে নতুন সরকারের কাছে নিরাপত্তা পুনর্বহালের আবেদন জানানো হয়। দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম স্বয়ং রাজ্য প্রশাসনের কাছে এই বিষয়ে আর্জি জানান।
বামেদের সেই আবেদনকে মান্যতা দিয়ে বুধবার থেকেই পাম অ্যাভিনিউয়ের বাড়ির সামনে পুনরায় ৩ জন নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করেছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। এ প্রসঙ্গে সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন:
“আজ সকালেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, বুদ্ধদার বাড়িতে আগের মতোই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তিনজন নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন থাকবেন।”
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, এই নিরাপত্তারক্ষীরা মীরা ভট্টাচার্যের ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে তাঁর সঙ্গে যাতায়াত করেন না। তাঁরা কেবল রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন। সরকারের এই দ্রুত পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট।

