ইরানের অন্যতম সুরক্ষিত ও কৌশলগত ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক পরিকাঠামো ‘পিকাক্স মাউন্টেন’ (পিকাক্স পাহাড়) সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে ইরানকে কঠোর ভাষায় সতর্ক করে ট্রাম্প বলেন, ‘‘আমাদের কঠোর আঘাত অব্যাহত থাকবে।’’ মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই প্রত্যক্ষ হুমকির পরেই আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে ইরানের এই রহস্যময় পিকাক্স পাহাড়।
‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ ও পিকাক্স পাহাড়ের প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, গত বছরের ২২ জুন ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক কেন্দ্র— ফোরডো, নাতান্জ় এবং ইসফাহানে যৌথ হামলা চালিয়েছিল আমেরিকার অত্যাধুনিক বি-২ বোমারু বিমান। ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ নামের সেই সামরিক অভিযানে মার্কিন বাহিনী তাদের বাঙ্কার ব্লাস্টার সিরিজের সবচেয়ে শক্তিশালী বোমা ‘জিবিইউ-৫৭’ (GBU-57) ব্যবহার করেছিল। তবে সেই জোরালো হামলার পরেও ইরানের কোনো পারমাণবিক কেন্দ্রই পুরোপুরি ধ্বংস করা সম্ভব হয়নি।
তেহরান থেকে ২২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে, ইরানের কেন্দ্রীয় মালভূমিতে অবস্থিত নাতান্জ় পারমাণবিক কেন্দ্রের মাত্র দেড় কিলোমিটার দূরত্বেই অবস্থিত এই পিকাক্স পাহাড়। মার্কিন গোয়েন্দা ও সামরিক বিশেষজ্ঞদের নজর এখন মূলত এই পাহাড়ের দিকেই।
ইউরেনিয়াম মজুত ও সেন্ট্রিফিউজ নির্মাণের কেন্দ্র
প্রকাশিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনের দাবি, ইরানের ‘ইউরেনিয়াম বিশুদ্ধকরণের মুকুট’ হিসেবে পরিচিত নাতান্জ় কেন্দ্র থেকে পরিশোধিত ইউরেনিয়াম স্থানান্তরিত করে এই পিকাক্স পাহাড়ের ভূগর্ভস্থ গোপন আস্তানায় মজুত করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, প্রাকৃতিক ইউরেনিয়াম-২৩৮ থেকে পারমাণবিক চুল্লি বা মারণাস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় আইসোটোপ ইউরেনিয়াম-২৩৫ আলাদা করার কাজে ব্যবহৃত সেন্ট্রিফিউজ় যন্ত্রও এই কেন্দ্রেই নির্মাণ করা হয়।
পার্বত্য অঞ্চলের এই পারমাণবিক কেন্দ্রটির একটি বড় অংশ মাটির গভীরে এবং বাকি অংশ মাটির উপরে অবস্থিত। সোমবার মার্কিন টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘দ্য হিউ হিউইট শো’-তে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই কেন্দ্রটিকেই নিশানা করার বার্তা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘‘আমরা পিকাক্স মাউন্টেন নিশ্চিহ্ন করে দেব। ইরানিদের প্রস্তুত থাকতে বলুন।’’
মার্কিন বোমার কার্যকারিতা নিয়ে সংশয়
ডোনাল্ড ট্রাম্প পিকাক্স পাহাড় উড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেও মার্কিন সংবাদমাধ্যমের একাংশ কিন্তু এই অভিযানের সফলতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে। বেশ কিছু মার্কিন সংবাদমাধ্যমের দাবি, পিকাক্স পাহাড়ের ভৌগোলিক অবস্থান ও ভূগর্ভস্থ নকশা এতটাই সুরক্ষিত যে, আমেরিকার সবচেয়ে শক্তিশালী ‘জিবিইউ-৫৭ বাঙ্কার ব্লাস্টার’ বোমার পক্ষেও এর গভীরে থাকা মূল পারমাণবিক কেন্দ্রটি সম্পূর্ণ ধ্বংস করা অত্যন্ত কঠিন। ফলে ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টি করলেও, বাস্তবে তা কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

