দেশের শাসনব্যবস্থার সংস্কার এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মঙ্গলবার নয়াদিল্লির সেন্ট্রাল ভিস্তার সেবাতীর্থে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের সচিবদের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সংবাদসংস্থা পিটিআই (PTI) জানিয়েছে, এই দিনের আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল শাসনব্যবস্থার আমূল সংস্কার, নাগরিকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশকে আরও সহজ ও উন্নত করে তোলা এবং দেশে ‘আত্মনির্ভরতা’র প্রচার বৃদ্ধি করা।
কাজের রূপরেখা ও ভবিষ্যৎ-কৌশল উপস্থাপন
প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় বিভিন্ন মন্ত্রকের সচিবেরা উল্লিখিত মূল বিষয়গুলির সাথে সামঞ্জস্য রেখে তাঁদের নিজ নিজ মন্ত্রক ও অধীনস্থ বিভাগগুলির নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলির সামগ্রিক রূপরেখা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া দিশানির্দেশকে বাস্তবায়িত করার লক্ষ্যে কোন কোন কর্মসূচির অগ্রগতি কতদূর হয়েছে, তা বিস্তারিত জানান সচিবরা। এর পাশাপাশি, বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প ও পদক্ষেপ রূপায়ণের ক্ষেত্রে কী কী সমস্যা বা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হচ্ছে, তা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং সরকারি পরিষেবার মান আরও উন্নত করার জন্য ভবিষ্যৎ-কৌশলের একটি খসড়াও প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করা হয়।
মন্ত্রক ভিত্তিক সঙ্কীর্ণতা দূর ও ‘পিএম গতিশক্তি’র ব্যবহারে জোর
সচিবদের উদ্দেশ্যে দেওয়া বার্তায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্পষ্ট জানান, বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প আমজনতার জীবনে ঠিক কী ধরনের বাস্তব ও দৃশ্যত প্রভাব ফেলছে, তার ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। আন্তঃবিভাগীয় সমন্বয় সাধন এবং তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের একটি অত্যন্ত কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ‘পিএম গতিশক্তি’ (PM GatiShakti)-র ব্যবহার আরও বৃদ্ধি করার ওপর জোর দেন তিনি। একই সাথে সরকারি কাজের গতি বাড়াতে মন্ত্রক ভিত্তিক সঙ্কীর্ণতা বা ভেদাভেদ পুরোপুরি দূর করার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
২০৪৭-এর উন্নত ভারত গঠন ও মন্ত্রিসভায় রদবদলের জল্পনা
সংসদের আসন্ন বাদল অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর মন্ত্রিসভায় বড়সড় রদবদল করতে পারেন বলে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা চলছে। এই আবহে প্রশাসনিক শীর্ষকর্তা তথা সচিবদের সঙ্গে আয়োজিত এই বৈঠকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদী সরকারের বিভিন্ন সংস্কারমূলক উদ্যোগগুলির একটি বিস্তৃত রূপরেখা তুলে ধরেন এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে একটি ‘উন্নত রাষ্ট্রে’ পরিণত করার যে প্রতিশ্রুতি রয়েছে, তা দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য কড়া বার্তা দেন।

