তীব্র লড়াই করেও শেষ রক্ষা হলো না। ২৩টি গ্র্যান্ড স্ল্যামের মালিক সেরিনা উইলিয়ামসের পেশাদার টেনিসে বহুল প্রতীক্ষিত প্রত্যাবর্তন সুখকর হতে দিলেন না অস্ট্রেলিয়ার মায়া জয়েন্ট। বছরের তৃতীয় গ্র্যান্ড স্ল্যাম উইম্বলডনের প্রথম রাউন্ডের এক হাইভোল্টেজ ম্যাচে সেরিনাকে ৩-৬, ৭-৬ (৮-৬), ৩-৬ ব্যবধানে হারিয়ে দিলেন ২০ বছর বয়সী জয়েন্ট।
সেন্টার কোর্টে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও সেরিনার পাওয়ার টেনিস
দীর্ঘ চার বছর পর উইম্বলডনের ঐতিহ্যবাহী সেন্টার কোর্টে যখন ৪৪ বছর বয়সী সেরিনা পা রাখেন, তখন দর্শকেরা তাঁকে দাঁড়িয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। ম্যাচের প্রথম গেমে দুই সন্তানের জননী সেরিনার মধ্যে দীর্ঘ বিরতির সামান্য জড়তা দেখা গেলেও, দ্বিতীয় গেম থেকেই তিনি চেনা মেজাজে ফিরতে শুরু করেন। নিজের চিরপরিচিত ‘পাওয়ার টেনিস’ দিয়ে প্রতিপক্ষকে কাঁপিয়ে দেন সেরিনা। উল্লেখ্য, প্রতিপক্ষ মায়া জয়েন্টের যখন জন্মও হয়নি, তার আগেই সাতটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জেতা হয়ে গিয়েছিল সেরিনার। তবে বয়সের সেই ব্যবধানকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে কোর্টে নিজেকে উজাড় করে দেন মার্কিন কৃষ্ণকলি।
টাইব্রেকারে দ্বিতীয় সেট জয়: চেনা ছন্দে কিংবদন্তি
প্রথম সেটে নিজের সার্ভিস দু’বার খুইয়ে ৩-৬ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েন সেরিনা। তবে দ্বিতীয় সেটে দেখা মেলে সেই চেনা অপ্রতিরোধ্য সেরিনার। মায়া জয়েন্টকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেন। খেলার স্কোর যখন ৪-৪, তখন জয়েন্টের সার্ভিস ভেঙে ৫-৪ ব্যবধানে এগিয়ে যান তিনি। তবে নিজের সার্ভিস ধরে রাখতে না পারায় লড়াই চলে সমানে সমানে। পুনরায় জয়েন্টের সার্ভিস ভেঙে ৬-৫ করলেও সেট পয়েন্ট নিশ্চিত করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে স্নায়ুর চাপ বজায় রেখে ৮-৬ পয়েন্টে দ্বিতীয় সেটটি ছিনিয়ে নিয়ে ম্যাচে ১-১ সমতা ফেরান সেরিনা।
তৃতীয় সেটে স্বপ্নভঙ্গ
ম্যাচ নির্ধারণকারী তৃতীয় বা ফাইনাল সেটের শুরুটা একেবারেই ভালো করতে পারেননি এই মার্কিন তারকা। শুরুতেই পরপর দুটি সার্ভিস গেম খুইয়ে বসেন তিনি, যার ফলে জয়েন্ট দ্রুত ৫-২ ব্যবধানে এগিয়ে যান। সেখান থেকে ম্যাচ বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করলেও আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেননি সেরিনা। শেষ পর্যন্ত ৬-৩ ব্যবধানে তৃতীয় সেট এবং সেই সাথে ম্যাচটি জিতে দ্বিতীয় রাউন্ডে চলে যান তরুণী জয়েন্ট।
ম্যাচ হারলেও সেরিনা উইলিয়ামস প্রমাণ করে দিলেন যে, তিনি কেবল খেলার জন্য খেলতে আসেননি। তাঁর সার্ভ কিংবা ব্যাক হ্যান্ডের ধার যে এখনও প্রতিপক্ষের মনে ভয় ধরানোর জন্য যথেষ্ট, তা এই ম্যাচেই স্পষ্ট।

