সুইডেনকে উড়িয়ে কোয়ার্টারে ফ্রান্স, জোড়া গোল এমবাপের, জাদুকরী পারফরম্যান্স ওলিসের

সুইডেনকে উড়িয়ে কোয়ার্টারে ফ্রান্স, জোড়া গোল এমবাপের, জাদুকরী পারফরম্যান্স ওলিসের

ফুটবল কতটা দৃষ্টিনন্দন ও নিখুঁত হতে পারে, সুইডেনের বিরুদ্ধে ম্যাচের প্রতি মিনিটে তা প্রমাণ করলেন কিলিয়ান এমবাপে এবং মাইকেল ওলিসেরা। সুইডিশ ফুটবলাররা যে খুব খারাপ খেলেছেন তা নয়, কিন্তু দিদিয়ের দেশঁর ‘টোটাল ফুটবল’-এর আগ্রাসনের সামনে টিকতে পারেনি তাদের প্রতিরোধ। নকআউট পর্বের এই ফ্রান্স যে কোনো বিশ্বশক্তিকে স্তব্ধ করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ফ্রান্সকে থামাতে হলে ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনার মতো দলকেও নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিতে হবে; শুধু লিওনেল মেসি বা ভিনিসিয়াস জুনিয়র একা এই দলটির গতি রুখতে পারবেন না।

ওলিস-এমবাপে যুগলবন্দি এবং বিশ্বকাপের নতুন রেকর্ড

দিনটি গোল না পেয়েও মূলত ছিল মাইকেল ওলিসের। পুরো ম্যাচ জুড়ে ডিফেন্স চেরা পাস, নিখুঁত সুযোগ তৈরি এবং দূরপাল্লার শটে সুইডেন রক্ষণকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখেন তিনি। অন্যদিকে, ম্যাচে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপে নিজের মোট গোলসংখ্যা ১৮-তে নিয়ে গেলেন কিলিয়ান এমবাপে। নকআউট পর্বে এটি তাঁর রেকর্ড ১০ নম্বর গোল। এই টুর্নামেন্টে ৬টি গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে তিনি ছুঁয়ে ফেললেন মেসিকে। অন্যদিকে, ওলিসও গড়লেন এক অনন্য নজির। চলতি বিশ্বকাপে সতীর্থদের দিয়ে এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৫টি গোল করালেন তিনি, যা তাঁকে দেশঁ বাহিনীর আসল চালিকাশক্তিতে পরিণত করেছে।

আক্রমণ বনাম পোস্টের লড়াই: প্রথমার্ধের খতিয়ান

ম্যাচের শুরু থেকেই রক্ষণ, মাঝমাঠ ও আক্রমণ— তিন বিভাগেই একাধিপত্য বিস্তার করে ফ্রান্স। তবে গোল পেতে ফরাসিদের অপেক্ষা করতে হয় ৪৫ মিনিট পর্যন্ত।

  • ২০ মিনিট: অফসাইডের কারণে এমবাপের একটি গোল বাতিল হয়।
  • ৩২ মিনিট: ওলিসের পাস থেকে এমবাপের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
  • ৩৬ মিনিট: ওলিসের একটি দর্শনীয় বাইসাইকেল কিকও গোলপোস্টে প্রতিহত হয়।
  • ৩৭ মিনিট: উসমান দেম্বেলের শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

অবশেষে ৪৫ মিনিটে ডেডলক ভাঙেন এমবাপে। দেম্বেলের কাছ থেকে বল পেয়ে বক্সের মধ্যে দুই সুইডিশ ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ১-০ করেন ফরাসি অধিনায়ক।

দ্বিতীয়র্ধে ফ্রান্সের দাপট ও সুইডেনের বিদায়

দ্বিতীয়ার্ধে আরও বিপজ্জনক রূপে আবির্ভূত হয় ফ্রান্স। ৫৩ মিনিটে ওলিসের পাস থেকে ব্যবধান ২-০ করেন ব্র্যাডলি বার্কোলা। এরপর ৭৪ মিনিটে ওলিসের ডিফেন্স চেরা পাস থেকেই নিজের দ্বিতীয় এবং দলের তৃতীয় গোলটি নিশ্চিত করেন এমবাপে। ৮৫ মিনিটে এমবাপেকে তুলে নেন কোচ দেশঁ, ফলে এই ম্যাচেও হ্যাটট্রিক অধরাই থেকে যায় ফরাসি তারকার।

সুইডেন রক্ষণাত্মক পথে না হেঁটে দ্রুতগতির ফুটবল খেলার চেষ্টা করলেও, ফ্রান্সের গতির সামনে তাদের পারফরম্যান্স ম্লান দেখিয়েছে। ৩-০ গোলে ম্যাচ জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখল ফ্রান্স, যেখানে তাদের মুখোমুখি হতে হবে জার্মানিকে ছিটকে দেওয়া প্যারাগুয়ের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.