মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দিঘার জগন্নাথ মন্দির চত্বরে পরিবর্তন করা হল পরিচিতি-ফলক। ‘জগন্নাথ ধাম’ শব্দবন্ধের পরিবর্তে সেখানে বসানো হয়েছে ‘শ্রী শ্রী জগন্নাথ কালচারাল সেন্টার’ লেখা নতুন ফ্লেক্স। বুধবার মন্দির প্রাঙ্গণে এই পরিবর্তন কার্যকর হতে দেখা যায়।
দিঘার জগন্নাথ মন্দিরকে ‘জগন্নাথ ধাম’ হিসেবে অভিহিত করা নিয়ে পূর্ববর্তী সরকারের আমল থেকেই বিতর্ক চলছিল। সরকারি নথিপত্রে প্রকল্পটির নাম ‘কালচারাল সেন্টার’ হিসেবে উল্লেখ থাকলেও নির্মাণের পর তার সঙ্গে ‘ধাম’ শব্দটি যুক্ত করা হয়েছিল। বিরোধী দলনেতা থাকাকালীনই এই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী।
রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, দিঘার জগন্নাথ মন্দির কমপ্লেক্সকে সরকারি নথিতে উল্লিখিত নামেই পরিচিত করা হবে। মঙ্গলবার তিনি ঘোষণা করেন, ‘জগন্নাথ ধাম’ নয়, ভবিষ্যতে এর সরকারি নাম হবে ‘শ্রী শ্রী জগন্নাথ কালচারাল সেন্টার’। সেই ঘোষণার পরের দিনই মন্দির চত্বরে নতুন ফ্লেক্স বসানো হয়।
এর আগে মন্দিরের মূল প্রবেশদ্বারের বাইরে ‘জগন্নাথ ধাম’ লেখা বোর্ড ছিল। ইতিমধ্যে সেটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। নতুন পরিচিতি-ফলক উন্মোচনের সময় উপস্থিত ছিলেন রামনগরের বিধায়ক চন্দ্রশেখর মণ্ডল, মন্দির ট্রাস্টি বোর্ডের অন্যতম সদস্য ও কলকাতা ইস্কনের সভাপতি রাধারমণ দাস-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
রামনগরের বিধায়ক চন্দ্রশেখর মণ্ডল বলেন, “আমরা পরিবর্তন চাই না, সংশোধন করতে চাই। আগের সরকারের প্রকল্প আমাদের সরকার বাতিল করেনি, শুধুমাত্র সংশোধন করেছে। দিঘার জগন্নাথ ধামকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন বিতর্ক তৈরি হওয়ায় ‘ধাম’ শব্দটি বাদ দিয়ে এর নাম ‘দিঘা জগন্নাথ মন্দির ও সাংস্কৃতিক সেন্টার’ করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “প্রশাসনিক নিয়ম মেনে এবং সনাতনী ভাবধারাকে সম্মান জানিয়ে আগামী দিনে সমস্ত কাজ করা হবে। রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে সকলের উচিত সনাতন ধর্মের প্রতি আস্থা রেখে একযোগে কাজ করা।”
মন্দির ট্রাস্টি বোর্ডের অন্যতম সদস্য রাধারমণ দাস বলেন, “রাজনৈতিক বিতর্ক ভুলে আমরা সকল সনাতনী প্রভু জগন্নাথের ভক্ত হিসেবে তাঁর নামস্মরণ ও ভক্তিতে নিজেদের নিবেদিত রাখি। পুরী হোক বা দিঘা, আমরা সকলেই জগন্নাথদেবের ভক্ত এবং তাঁরই আরাধনায় বিশ্বাসী।”
উল্লেখ্য, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরকে কেন্দ্র করে ওড়িশা সরকারের সঙ্গে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে একটি চিঠি পাঠান। পুরীর বিজেপি সাংসদ সম্বিত পাত্র সেই চিঠি ব্যক্তিগতভাবে শুভেন্দুর হাতে তুলে দেন।
পরবর্তীতে সম্বিত পাত্রকে পাশে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন যে, ওড়িশা সরকারের প্রস্তাব গ্রহণ করে দিঘার মন্দির কমপ্লেক্স থেকে ‘ধাম’ শব্দটি সরিয়ে দেওয়া হবে। তিনি জানান, যেখানে নিয়মিত পুজো-পাঠ অনুষ্ঠিত হয়, সেই অংশটি ‘জগন্নাথদেব মন্দির’ নামে পরিচিত হবে। অন্যদিকে, পুরো কমপ্লেক্সটির সরকারি নাম হবে ‘শ্রী শ্রী জগন্নাথ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’।
মুখ্যমন্ত্রীর সেই ঘোষণার এক দিনের মধ্যেই মন্দির চত্বরে নতুন পরিচিতি-ফলক স্থাপন করা হল, যার মাধ্যমে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

