টলিউডে নক্ষত্রপতন। বুধবার দুপুরে আচমকাই প্রয়াত হলেন বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক অনীক দত্ত। পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বালিগঞ্জের হিন্দুস্তান পার্ক এলাকায় তাঁর প্রাক্তন স্ত্রীর বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে যান তিনি। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে দ্রুত ঢাকুরিয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর।
খবর পাওয়ামাত্রই পরিচালকের ঢাকুরিয়ার ডোভার লেনের বাসভবন এবং দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। কীভাবে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনাস্থলে লালবাজারের ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দল এসে নমুনা সংগ্রহ করবেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। আইনি প্রক্রিয়া মেনে ময়নাতদন্তের জন্য পরিচালকের দেহ এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালে পাঠানো হবে।
বিজ্ঞাপন জগৎ থেকে রূপালি পর্দা: অনীকের বর্ণময় সফর
চলচ্চিত্র পরিচালনায় আসার আগে দীর্ঘ দুই দশক ধরে বিজ্ঞাপন জগতের অত্যন্ত পরিচিত নাম ছিলেন অনীক দত্ত। বহু নামী ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনী ছবি তৈরি করে তিনি নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছিলেন। ২০১২ সালে তাঁর পরিচালিত প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্যের ছবি ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’ বক্স অফিসে অভাবনীয় সাফল্য পায় এবং তিনি রাতারাতি লাইমলাইটে চলে আসেন। যদিও সেই ছবিকে ঘিরে সমসাময়িক রাজনৈতিক মহলে কম বিতর্ক হয়নি।
পরবর্তীতে তিনি ‘আশ্চর্য প্রদীপ’, ‘মেঘনাদ বধ রহস্য’, ‘ভবিষ্যতের ভূত’ এবং ‘বরুণবাবুর বন্ধু’-র মতো প্রশংসিত ছবি উপহার দেন। সত্যজিৎ রায়ের ‘পথের পাঁচালী’ তৈরির নেপথ্য কাহিনি অবলম্বনে তাঁর নির্মিত ছবি ‘অপরাজিত’ আন্তর্জাতিক স্তরে বিপুল সমাদর পাওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছিল। তাঁর পরিচালিত শেষ ছবি ‘যত কাণ্ড কলকাতাতেই’ নিয়ে সিনেপ্রেমীদের মধ্যে যথেষ্ট চর্চা হয়েছিল। স্পষ্টবক্তা এবং আদ্যোপান্ত বামপন্থী ভাবাদর্শের মানুষ হিসেবেই চলচ্চিত্র জগতে পরিচিত ছিলেন এই পরিচালক। মাত্র পাঁচ দিন আগেই, গত ২২ মে নিজের ৬৬তম জন্মদিন উদযাপিত করেছিলেন তিনি এবং সামাজিক মাধ্যমে পুরনো স্মৃতিও ভাগ করে নিয়েছিলেন।
শোকস্তব্ধ টলিউড ও রাজনৈতিক মহল
অনীক দত্তর আকস্মিক প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঢাকুরিয়ার বেসরকারি হাসপাতালে ভিড় জমাতে শুরু করেন টলিউডের কলাকুশলী থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা।
বিশিষ্ট চলচ্চিত্র প্রযোজক ফিরদৌসল হাসান গভীর শোক প্রকাশ করে সংবাদমাধ্যমকে জানান:
“এখনই বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব নয়। আমরা অনীকের মেয়ের জন্য অপেক্ষা করছি, ও এলেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সরকারি নিয়ম মেনে ময়নাতদন্তের জন্য দেহ এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।”
এই মর্মান্তিক ঘটনায় স্তব্ধ যুবনেত্রী দীপ্সিতা ধরও। নিজের শোকপ্রকাশ করে তিনি বলেন, “খবরটা এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না। অত্যন্ত আকস্মিক এবং বড় ধাক্কা।” পরিচালকের এমন আকস্মিক ও রহস্যজনক মৃত্যুতে বাংলা চলচ্চিত্র জগতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

