দক্ষিণবঙ্গে ভারী বৃষ্টি! ৭০ কিমি বেগে ঝড় পাঁচ জেলায়, কলকাতাতেও জারি কমলা সতর্কতা, কোথায় কী পূর্বাভাস

দক্ষিণবঙ্গে ভারী বৃষ্টি! ৭০ কিমি বেগে ঝড় পাঁচ জেলায়, কলকাতাতেও জারি কমলা সতর্কতা, কোথায় কী পূর্বাভাস

উত্তরবঙ্গের পাশাপাশি এবার দক্ষিণবঙ্গেও ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস জারি করল আলিপুর আবহাওয়া দফতর। যদিও অতি ভারী বৃষ্টিপাত আপাতত একটি জেলাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে। তবে আগামী দুই-তিন দিন দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ অংশে কালবৈশাখীর দাপট ও ঝড়বৃষ্টির তীব্রতা বজায় থাকবে। এর জেরে গত কয়েক দিনের ভ্যাপসা গরম থেকে মুক্তি পেয়ে তাপমাত্রায় কিছুটা স্বস্তি মিলবে বলে মনে করছেন আবহবিদেরা।

ইতিমধ্যেই বুধবার থেকে দক্ষিণবঙ্গের পুরুলিয়াসহ বিভিন্ন জেলায় ঝড়বৃষ্টি শুরু হয়ে গিয়েছে। কলকাতাতেও বুধবার কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার দক্ষিণবঙ্গে ‘কমলা সতর্কতা’: কোন জেলায় কেমন ঝড়বৃষ্টি?

বৃহস্পতিবার দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়ে ‘কমলা সতর্কতা’ (Orange Alert) জারি করেছে আবহাওয়া দফতর।

  • ভারী বৃষ্টি: বৃহস্পতিবার পূর্ব বর্ধমানের কিছু কিছু এলাকায় ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী বর্ষণ হতে পারে।
  • ঝোড়ো হাওয়া (৬০-৭০ কিমি): পশ্চিম বর্ধমান, নদিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া এবং হুগলি জেলায় বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।
  • কলকাতা ও বাকি জেলা (৫০-৬০ কিমি): কলকাতা সমেত দক্ষিণবঙ্গের অবশিষ্ট জেলাগুলিতে ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার ছুঁতে পারে।

সপ্তাহের শেষভাগের আবহাওয়া চিত্র

  • শুক্রবার: পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া এবং ঝাড়গ্রামে ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। দক্ষিণের বাকি জেলাগুলিতে ঝড়ের বেগ থাকবে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার।
  • শনিবার: সপ্তাহের শেষে ঝড়বৃষ্টির দাপট কিছুটা কমবে। তবে পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, দুই মেদিনীপুর এবং বীরভূমে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টি হতে পারে।
  • রবিবার ও পরবর্তী দিন: রবিবারও পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া দফতরের মতে, আগামী ২ জুন পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই কম-বেশি বৃষ্টিপাত জারি থাকবে।

উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি ও সাগরে মৎস্যজীবীদের নিষেধাজ্ঞা

উত্তরবঙ্গের ক্ষেত্রে জলপাইগুড়ি জেলার কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। বাকি জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সাথে ঝোড়ো হাওয়া বইবে। আগামী শুক্রবার পর্যন্ত সমগ্র উত্তরবঙ্গে ঝড়বৃষ্টির এই সতর্কতা জারি রাখা হয়েছে।

অন্য দিকে, পশ্চিমবঙ্গ এবং ওড়িশা উপকূল সংলগ্ন সমুদ্রের ওপর বর্তমানে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইছে, যা মাঝেমধ্যে দমকা আকারে ৬০ কিলোমিটারে পৌঁছে যাচ্ছে। সমুদ্র উত্তাল থাকার কারণে আগামী বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন।

তিন-তিনটি সিস্টেমের জেরে ঢুকছে জলীয় বাষ্প: কমবে তাপমাত্রা

হাওয়া অফিস জানিয়েছে, বর্তমানে বায়ুমণ্ডলে তিনটি সিস্টেম বা আবহাওয়াগত পরিস্থিতি সক্রিয় রয়েছে: ১. উত্তর ছত্তীসগঢ় এবং সংলগ্ন ওড়িশার ওপর সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১.৫ কিলোমিটার উঁচুতে একটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে। ২. উত্তর-পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ থেকে দক্ষিণ উপকূলীয় ওড়িশা পর্যন্ত বিস্তৃত একটি অক্ষরেখা এই ঘূর্ণাবর্তের ওপর দিয়ে গিয়েছে, যার উচ্চতা ০.৯ কিলোমিটার। ৩. এ ছাড়া বিহার থেকে তেলঙ্গানা পর্যন্ত সমুদ্রতল থেকে ১.৫ কিলোমিটার উঁচুতে আরও একটি অক্ষরেখা বিস্তৃত রয়েছে।

এই তিন সিস্টেমের যৌথ প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প স্থলভাগে প্রবেশ করছে, যা সমগ্র পশ্চিমবঙ্গজুড়ে ঝড়বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করেছে। তবে বৃষ্টির পাশাপাশি বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতা বেশি থাকায় কিছুটা অস্বস্তিও বজায় থাকবে।

তাপমাত্রার পারদ: বুধবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৮.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে এক ডিগ্রি বেশি। মঙ্গলবার দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা হয়েছিল ৩৫.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস (স্বাভাবিকের চেয়ে ০.৫ ডিগ্রি বেশি)। তবে আবহাওয়া দফতর আশ্বস্ত করে জানিয়েছে, এই ঝড়বৃষ্টির প্রণোদনায় বৃহস্পতিবার থেকে দক্ষিণবঙ্গের তাপমাত্রা প্রায় ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.