কিছু অপছন্দ হলে আমরা বলতে ভয় পাই, অনীকদা যেটা ঠিক মনে করতেন, স্পষ্ট বলে দিতেন: আবীর

কিছু অপছন্দ হলে আমরা বলতে ভয় পাই, অনীকদা যেটা ঠিক মনে করতেন, স্পষ্ট বলে দিতেন: আবীর

বিনোদন ডেস্ক: বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক অনীক দত্তের আকস্মিক ও মর্মান্তিক প্রয়াণ কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না টলিউড অভিনেতা আবীর চট্টোপাধ্যায়। পরিচালকের শেষ ছবি ‘যত কাণ্ড কলকাতাতেই’-এর মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন তিনি। গত বছর দুর্গাপুজোয় মুক্তিপ্রাপ্ত এই ছবিটি নিয়ে নানা জটিলতা ও বিতর্ক তৈরি হলেও, প্রেক্ষাগৃহে তা দর্শকদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছিল। ছবি মুক্তি সংক্রান্ত বিষয়ে অভিনেতার প্রতি পরিচালকের কিছু অনুযোগ থাকলেও, অনীক দত্তের এমন চরম পরিণতিতে স্তব্ধ ও শোকাচ্ছন্ন আবীর।

“ভাবতে পারছি না এমনও হতে পারে”: আবীর চট্টোপাধ্যায়

বুধবার দুপুরে দক্ষিণ কলকাতার হিন্দুস্তান পার্কের একটি আবাসনের ছাদ থেকে পড়ে যান অনীক দত্ত। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে ঘটনাস্থল থেকে একটি ‘সুইসাইড নোট’ উদ্ধার করে পুলিশ।

পরিচালকের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর নিজের স্তব্ধতা প্রকাশ করে আবীর চট্টোপাধ্যায় বলেন:

“এই খবর সত্যিই আমার কল্পনাতীত। অনীকদা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন, তাই প্রথমে ভেবেছিলাম অসুস্থতাজনিত কারণেই হয়তো কিছু হয়েছে। কিন্তু পরে যখন আসল ঘটনাটি জানতে পারলাম, আমি হতবাক হয়ে গেলাম। অসুস্থ হয়ে কারও মৃত্যু হলে মনকে সান্ত্বনা দেওয়ার একটা জায়গা থাকে। কিন্তু এই ধরনের ঘটনা মানুষকে স্তব্ধ করে দেয়। ওঁর তেমন কোনো বয়সও হয়নি।”

আবীর আরও জানান, তিনি খবর পেয়েছিলেন যে অনীকদাকে নতুন আরেকটি ছবি পরিচালনার জন্য রাজি করানো গিয়েছিল এবং পরিচালক নিজেও তাঁর পরবর্তী ছবির পরিকল্পনা শুরু করেছিলেন। সেই জায়গা থেকে তাঁর এভাবে হঠাৎ চলে যাওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যাচ্ছে না।

স্পষ্টভাষী ও আপসহীন এক ব্যক্তিত্বের অবসান

অনীক দত্তের ‘মেঘনাদবধ রহস্য’ ছবিতেও অভিনয় করেছিলেন আবীর। পরিচালকের সাথে সিনেমা এবং বিজ্ঞাপনে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার স্মৃতি রোমন্থন করে অভিনেতা বলেন, “সকলের থেকে অনীকদাকে আলাদা করে দিত ওঁর অসাধারণ রসবোধ ও অগাধ পড়াশোনার পরিধি। উনি অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্ত একজন মানুষ ছিলেন এবং ওঁর মতো লেখার হাত খুব কম মানুষেরই থাকে।”

প্রয়াত পরিচালকের আপসহীন মানসিকতার প্রশংসা করে আবীর বলেন:

“রাজনৈতিক হোক বা অন্য যেকোনো বিষয়— যেটা বলার, সেটা উনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে মুখে বলে দিতেন। উনি কোনোদিন আপস করতে জানতেন না। কোনো কিছু অপছন্দ হলে আমরা সাধারণত ঝামেলার ভয়ে সহজে বলতে পারি না, কিন্তু অনীকদা তা অনায়াসে বলতেন। এমন সোজা কথার মানুষ চারপাশ থেকে দিন দিন কমে যাচ্ছে।”

পার্ক স্ট্রিটের সেই শেষ স্মৃতি

মাসখানেক আগে শেষবারের মতো অনীক দত্তের সাথে কথা হয়েছিল আবীরের। ‘যত কাণ্ড কলকাতাতেই’ ছবির সাফল্যের দিনগুলির কথা স্মরণ করে অভিনেতা জানান, ছবি মুক্তির ৫০তম দিনে তাঁর সাথে বেশ খুনসুটি ও মজা করেছিলেন পরিচালক। পরবর্তীতে পার্ক স্ট্রিটকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া সেই ছবির সাফল্যের উদ্‌যাপনে পার্ক স্ট্রিটেরই একটি পার্টিতে পরিচালকের সাথে হইহই করে আনন্দ করার স্মৃতি আজও আবীরের মনে উজ্জ্বল।

আবীর মনে করেন, অনীক দত্তের তৈরি চলচ্চিত্রগুলি বাংলা সিনেমা জগতে এক অন্য মাত্রা যোগ করেছে। কাজের সূত্রে তৈরি হওয়া সেইসব বহু স্মৃতি আজ কেবলই ইতিহাস, যা ভাবলে আজও বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ছেন অভিনেতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.