নাবালিকাকে যৌন নির্যাতনসহ একাধিক গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের মামলা চলায় চলতি আইপিএল (IPL) মরসুমে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (RCB) দলে জায়গা পাননি বাঁহাতি পেসার যশ দয়াল। প্রতিযোগিতার শেষ লগ্নে এসে এই নিয়ে নিজের চাপা অভিমান প্রকাশ করেছেন তিনি। তাঁর মতে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতেও তাঁকে দলের অংশ হিসেবেই রাখা উচিত ছিল। তবে টুর্নামেন্টে খেলতে না পারলেও বেঙ্গালুরু ফ্র্যাঞ্চাইজির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন এই ক্রিকেটার।
গুরুতর আইনি অভিযোগের মুখে যশ দয়াল
যশ দয়ালের বিরুদ্ধে দেশের আলাদা আলাদা রাজ্যে একাধিক গুরুতর আইনি মামলা চলছে।
- ২০২৫ সালের ঘটনা: উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে তাঁর বিরুদ্ধে প্রথম শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে একটি এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়।
- পরবর্তী অভিযোগ: এরপর রাজস্থানের জয়পুরে তাঁর বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা দায়ের হয়, যেখানে এক নাবালিকাকে ধর্ষণের মতো অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
যদিও সাম্প্রতিক খবর অনুযায়ী, এলাহাবাদ এবং জয়পুর হাইকোর্ট থেকে আইনি বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষাকবচ (আদালতের সাময়িক স্বস্তি) পেয়েছেন এই ক্রিকেটার।
“দল আমাকে তাড়িয়ে দেয়নি”: পডকাস্টে দাবি দয়ালের
সম্প্রতি একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে নিজের বর্তমান পরিস্থিতি ও আইপিএল নিয়ে মুখ খোলেন যশ দয়াল। তিনি দাবি করেন, বিতর্ক থাকলেও ফ্র্যাঞ্চাইজি তাঁকে ব্রাত্য করে দেয়নি।
দয়াল বলেন,
“ওরা (আরসিবি) আমাকে দল থেকে তাড়িয়ে দেয়নি, এমনকি আমার জায়গায় কোনো পরিবর্ত ক্রিকেটারের নামও ঘোষণা করেনি। এর থেকেই পরিষ্কার যে ওরা এখনও আমাকে দলেরই একটা অংশ হিসেবে দেখছে। এই মরসুম থেকে নাম তুলে নেওয়াটা আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ছিল না। পরিস্থিতি অত্যন্ত বিতর্কিত ছিল এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার কর্তৃপক্ষের ওপরেই থাকে। তবে সত্যি বলতে, এই আইপিএলটা আমি খুব মিস করেছি। মনে হচ্ছে খেললে বোধহয় ভালো হতো।”
ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ
আইপিএলের আঙিনায় না থাকলেও বেঙ্গালুরু শিবিরের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়নি বলে জানান দয়াল। তিনি বলেন, “ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে নিয়মিত আমার কথা হয়। কখনো ওরা ফোন করে, আবার কখনো আমি নিজে করি। দলের ডিরেক্টর মো বোবাট এবং দীনেশ কার্তিকের (ডিকে) সঙ্গে আমার নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে।”
উল্লেখ্য, চলমান আইনি প্রক্রিয়া সত্ত্বেও গত নিলামে যশ দয়ালকে ৫ কোটি টাকার বিনিময়ে দলে ধরে রেখেছিল বেঙ্গালুরু। গত দুই মরসুমে ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে বল হাতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও পালন করেছিলেন। তবে আগামী মরসুমে দল তাঁকে ধরে রাখবে নাকি ছেড়ে দেবে, তা নিয়ে এখনও ফ্র্যাঞ্চাইজির তরফে স্পষ্ট কোনো ইঙ্গিত মেলেনি।

