ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (IPL) সপ্তদশ আসর এখন চূড়ান্ত পর্বে। আজ, মঙ্গলবার প্রথম কোয়ালিফায়ারে মুখোমুখি হচ্ছে বেঙ্গালুরু এবং গুজরাত। হিমাচল প্রদেশের ধর্মশালায় অনুষ্ঠিত হতে চলা এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে দুই দলই সমানে-সমানে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিয়েছে। চলতি মরসুমে লিগ টেবিলে দু’দলের অবস্থানই ছিল একই জায়গায়— ১৮ পয়েন্ট নিয়ে প্রথম দুটি স্থান দখল করে তারা শেষ চারে যোগ্যতা অর্জন করেছে। তবে মহাগুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের আগে বেঙ্গালুরু শিবিরের প্রধান চিন্তা বোলারদের পারফরম্যান্স, অন্যদিকে গুজরাত শিবির আশা করছে একটি হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের।
২২০ রানও নিরাপদ নয়: চিন্তিত রজত পাটীদার
ম্যাচের আগের দিন, সোমবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বোলারদের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বেঙ্গালুরুর অধিনায়ক রজত পাটীদার। তাঁর মতে, আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এখন ২২০ বা ২২৩ রানও নিরাপদ স্কোর নয়, যা সব দলের বোলারদের জন্যই অত্যন্ত চিন্তার বিষয়।
পাটীদার বলেন,
“বর্তমান পরিস্থিতিতে বোলারদের জন্য কাজটা খুব কঠিন হয়ে পড়েছে। উইকেট ব্যাটিং সহায়ক হচ্ছে, বাউন্ডারির সীমানাও ছোট, তার ওপর যোগ হচ্ছে শিশিরের (Dew) প্রভাব। জোরে বোলারদের সামান্য একটা ভুলেও অনায়াসে ছক্কা হয়ে যাচ্ছে। তবে পরিস্থিতি যেমনই হোক না কেন, আমরা আমাদের সেরাটা দেব। পিচ কেমন আচরণ করবে, তা তো আর আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই।”
উল্লেখ্য, গতবারের চ্যাম্পিয়ন বেঙ্গালুরু হলেও এবারের ফাইনাল ম্যাচটি তাদের ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। বিভিন্ন প্রশাসনিক ও পারিপার্শ্বিক সমস্যার কথা উল্লেখ করে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI) ফাইনাল ম্যাচটি আমদাবাদে সরিয়ে নিয়ে গেছে। তবে এই বিতর্কিত বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি বেঙ্গালুরু অধিনায়ক। তিনি শুধু জানান, দুটি দলই টুর্নামেন্টে ভালো খেলেছে এবং নির্দিষ্ট দিনে যারা নিজেদের পরিকল্পনা নিখুঁতভাবে বাস্তবায়ন করতে পারবে, তারাই শেষ হাসি হাসবে।
লড়াই হবে সমানে-সমানে, দাবি গুজরাত শিবিরের
অন্য দিকে, গুজরাতের সহকারী কোচ বিজয় দাহিয়া মনে করছেন, দুই দলের মধ্যেই শক্তির ভারসাম্য বজায় রয়েছে। তাই কোনো নির্দিষ্ট দলকে এগিয়ে না রেখে একে একটি সমান-সমান লড়াই হিসেবেই দেখছেন তিনি।
চলতি মরসুমের পরিসংখ্যান টেনে দাহিয়া বলেন, “এটাকে সমানে-সমানে লড়াই বললে ভুল হবে না। এই মরসুমে আমরা একে অপরের বিরুদ্ধে দু’বার খেলেছি এবং ফল ১-১ সমতায় রয়েছে। দুটি দলেই বিশ্বমানের ক্রিকেটার রয়েছে।” তবে গুজরাত কোচের মতে, ব্যাটাররা রান করলেও শেষ পর্যন্ত বোলারেরাই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেবেন। তিনি যোগ করেন, “দিনের শেষে একটি শক্তিশালী ও বৈচিত্র্যময় বোলিং বিভাগ থাকা অত্যন্ত জরুরি। দুই দলের বোলারদের মধ্যেই ধারাবাহিকতা রয়েছে এবং উভয় দলের অধিনায়কেরাই তাঁদের বোলারদের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখেন।”
আজকের ম্যাচে যে দলই জিতবে, তারা সরাসরি ফাইনালে নিজেদের স্থান পাকা করে নেবে। ফলে ধর্মশালার মাঠে আজ একটি রুদ্ধশ্বাস ক্রিকেটীয় লড়াই দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন ক্রীড়ামোদীরা।

