এক ম্যাচেই ভাগ্য নির্ধারণ চার দলের: মুম্বইকে হারিয়ে প্লে-অফে রাজস্থান, বিদায় নিল কেকেআর ও পঞ্জাব

এক ম্যাচেই ভাগ্য নির্ধারণ চার দলের: মুম্বইকে হারিয়ে প্লে-অফে রাজস্থান, বিদায় নিল কেকেআর ও পঞ্জাব

আইপিএলের একটি মাত্র ম্যাচের ফলাফলেই নির্ধারিত হয়ে গেল চার-চারটি দলের ভাগ্য। ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে ৩০ রানে হারিয়ে চতুর্থ দল হিসেবে প্লে-অফের টিকিট নিশ্চিত করল রাজস্থান রয়্যালস। আর রাজস্থানের এই জয়ের ফলেই ইডেন গার্ডেন্সে দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে ম্যাচ শুরুর পরপরই চরম দুঃসংবাদ পেল কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর)। টুর্নামেন্টের প্লে-অফের দৌড় থেকে অফিশিয়ালি ছিটকে গেল কেকেআর ও পঞ্জাব কিংস। ফলে কেকেআর বনাম দিল্লির ম্যাচটি এখন স্রেফ নিয়মরক্ষার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। এই ম্যাচ জিতলে কেকেআর লিগ তালিকায় পাঁচ নম্বরে শেষ করতে পারবে, আর হারলে নামবে সাত নম্বরে।

আর্চারের অলরাউন্ড দাপটে রাজস্থানের ২০৫ রান

এ দিন টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে জফ্রা আর্চারের ঝোড়ো ব্যাটিং এবং মিডল অর্ডারের লড়াকু মানসিকতায় ভর করে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ২০৫ রানের বিশাল স্কোর খাড়া করে রাজস্থান রয়্যালস। শুরুতে যশস্বী জয়সওয়াল ১৭ বলে ২৭ রান করে উইল জ্যাকসের বলে আউট হন। এরপর দীপক চহারের বলে মাত্র ৪ রানে ফেরেন বৈভব সূর্যবংশী। অধিনায়ক রিয়ান পরাগও (১৪) ব্যর্থ হন। ৫৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে যখন রাজস্থান চাপে, তখন ইনিংসের হাল ধরেন দাসুন শনকা (২৯) ও ধ্রুব জুরেল (৩৮)।

মিডল অর্ডারের এই দুই ব্যাটার ফেরার পর ডোনোভান ফেরেরাও ১৮ রানে আউট হলে ১৩৯ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে রাজস্থান। এক সময় মনে হচ্ছিল তারা ১৮০ রানও করতে পারবে না। ঠিক তখনই ম্যাচের রং বদলে দেন জফ্রা আর্চার। মাত্র ১৫ বলে ৩২ রানের টর্নেডো ইনিংস খেলেন তিনি। শেষ দিকে রবীন্দ্র জাডেজা (১১ বলে ১৯) এবং নান্দ্রে বার্গারের (৩ বলে ১০) কার্যকর অবদানে ২০০ রানের গণ্ডি পার করে রাজস্থান।

মুম্বইয়ের টপ অর্ডারে ধস ও সূর্য-হার্দিকের লড়াই

২০৬ রানের পাহাড়প্রমাণ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। প্রথম ওভারেই জফ্রা আর্চারের বলে শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন রোহিত শর্মা। এরপর রায়ান রিকেলটনকে (১২) নান্দ্রে বার্গার এবং নমন ধীরকে (৬) বোল্ড করে মুম্বইয়ের টপ অর্ডার গুঁড়িয়ে দেন আর্চার। তিলক বর্মাও মাত্র ৩ রান করে ব্রিজেশ শর্মার শিকার হন। পাওয়ার প্লে-র মধ্যেই ৩৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে যায় মুম্বই।

সেখান থেকে দলের হাল ধরেন সূর্যকুমার যাদব ও উইল জ্যাকস। রাজস্থানের ফিল্ডারদের ক্যাচ মিসের সুযোগ নিয়ে ৩২ বলে আইপিএলে নিজের দীর্ঘ ১০ ইনিংস পরের অর্ধশতরানটি তুলে নেন সূর্য। তবে উইল জ্যাকস ১৮ বলে ৩৩ রান করে যশরাজ পুঞ্জার বলে আউট হলে তাঁদের ৬৩ রানের জুটিটি ভেঙে যায়। এরপর ক্রিজে আসেন অধিনায়ক হার্দিক পাণ্ড্য। প্রথম বলেই ক্যাচ দিয়ে জীবন পাওয়ার পর বিধ্বংসী মেজাজে ব্যাটিং শুরু করেন তিনি। প্রথম ৯ বলে ৩০ রান তুলে মুম্বইয়ের জয়ের আশা জিইয়ে রাখেন হার্দিক।

টেবিল টার্নার জফ্রা আর্চার

মুম্বইয়ের শেষ ৩০ বলে প্রয়োজন ছিল ৫৯ রান। ক্রিজে দুই সেট ব্যাটার হার্দিক ও সূর্য থাকায় রাজস্থান অধিনায়ক রিয়ান পরাগ তাঁর সেরা অস্ত্র জফ্রা আর্চারের হাতে বল তুলে দেন। আর্চারও অধিনায়কের আস্থার মর্যাদা রেখে ১৫ বলে ৩৪ রান করা বিপজ্জনক হার্দিক পাণ্ড্যকে আউট করে মুম্বইকে মরণ কামড় দেন। শেষ ভরসা সূর্যকুমার যাদবও ৬০ রান করে নান্দ্রে বার্গারের বলে আউট হলে মুম্বইয়ের লড়াই শেষ হয়ে যায়। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৭৫ রানেই থমকে যায় পাঁচ বারের চ্যাম্পিয়নদের ইনিংস।

ব্যাট হাতে ১৫ বলে ৩২ রান করার পাশাপাশি বল হাতে ৪ ওভারে মাত্র ১৭ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা নায়ক জফ্রা আর্চার। তাঁর এই অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের ওপর ভর করেই ৩০ রানের দুর্দান্ত জয়ে শেষ চারে জায়গা করে নিল রাজস্থান রয়্যালস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.