নন্দীগ্রাম আসন ছাড়লেও মানুষের পাশেই থাকছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু, পঞ্চায়েত ও প্রশাসনের ‘বিশেষ দায়িত্বে’ সাংসদ সৌমেন্দু

নন্দীগ্রাম আসন ছাড়লেও মানুষের পাশেই থাকছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু, পঞ্চায়েত ও প্রশাসনের ‘বিশেষ দায়িত্বে’ সাংসদ সৌমেন্দু

সাংবিধানিক নিয়ম মেনে নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ ছাড়লেও, সেখানকার মানুষের পাশে তিনি আগের মতোই থাকবেন বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার নন্দীগ্রামের বটতলায় আয়োজিত এক অভিনন্দন জ্ঞাপন সভায় উপস্থিত হয়ে এই আশ্বাস দেন তিনি। একই সঙ্গে নন্দীগ্রামের জনগণ, প্রশাসন ও পঞ্চায়েতের কাজের দেখভালের জন্য তাঁর ভাই তথা বিজেপি সাংসদ সৌমেন্দু অধিকারীকে ‘বিশেষ দায়িত্ব’ অর্পণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

বিগত বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর— দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তবে নিয়ম মেনে ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে শপথ নেওয়ার পর নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এ দিনের সভায় নন্দীগ্রামের ভোটারদের কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “২০০৩ সাল থেকে নন্দীগ্রামের মানুষ আমাকে যেভাবে দেখে আসছেন, আগামী দিনেও ঠিক সেভাবেই পাবেন। আমি আগের মতোই আপনাদের কাছে পৌঁছে যাব, নিশ্চিন্ত থাকুন।”

পূর্বতন সরকারের আটকে থাকা কাজে গতি আনার প্রতিশ্রুতি

এ দিনের সভা থেকে পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে তীব্র নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, আগের সরকারের অসহযোগিতার কারণেই নন্দীগ্রামের একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প থমকে ছিল। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আমি পানীয় জলের ব্যবস্থা করেছিলাম, কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাইপ বিছাতে দেননি। রেললাইনের কাজ করতে গিয়েছিলাম, মাত্র ছয় একর জায়গা আটকে রেখে রেললাইন সম্পূর্ণ হতে দেওয়া হয়নি।” নির্বাচনী প্রচারে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পালন করার আশ্বাস দিয়ে তিনি জানান, তাঁর মন্ত্রক থেকে যে সমস্ত পরিষেবা দেওয়া হতো, তা আগের মতোই বজায় থাকবে। এ ছাড়াও, নন্দীগ্রামের মানুষ যাতে দ্রুত ১০০ দিনের কাজের সুবিধা পান, সে বিষয়ে তিনি পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষকে নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান।

নন্দীগ্রামের দায়িত্বে সৌমেন্দু ও পাঁচ বিধায়ক

রাজ্যের প্রশাসনিক কাজের ব্যস্ততার কারণে তিনি সবসময় নন্দীগ্রামে সশরীরে উপস্থিত থাকতে না পারলেও, সেখানকার মানুষের জন্য বিকল্প ব্যবস্থার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, এখন থেকে নন্দীগ্রামের পঞ্চায়েত, প্রশাসন ও জনগণের কাজের মূল দায়িত্বে থাকবেন কাঁথির সাংসদ সৌমেন্দু অধিকারী। এই কাজে তাঁকে সহযোগিতা করবেন পাঁচটি মণ্ডলের পাঁচজন বিজেপি বিধায়ক— অরূপকুমার দাস, শান্তনু প্রামাণিক, চন্দ্রশেখর মণ্ডল, নির্মল খাঁড়া এবং তপন মাইতি।

ভোট-পরবর্তী হিংসা ও মিথ্যা মামলা নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি

২০২১ সালের নির্বাচন-পরবর্তী হিংসা এবং বিজেপি কর্মীদের ওপর হওয়া নির্যাতনের প্রসঙ্গও এ দিন মুখ্যমন্ত্রীর বক্তৃতায় উঠে আসে। সভায় উপস্থিত হিংসায় নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সামনে তিনি বলেন, “আমাদের ৪,০০০ কর্মীকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে। আমি কিছুই ভুলিনি, সবকিছুর হিসাব হবে। তবে কেউ আইন হাতে তুলে নেবেন না। অপরাধীদের আসল জায়গা জেল, একটিকেও ছাড়া হবে না।”

উপনির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয়ের আহ্বান

নন্দীগ্রাম আসনে আগামী দিনে উপনির্বাচন হতে চলেছে উল্লেখ করে, সেখানে বিজেপি প্রার্থীকে বিপুল ভোটে জয়ী করার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী। ফলতা উপনির্বাচনে বিজেপির প্রায় ১ লক্ষ ৮ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “নন্দীগ্রামেও ফলতার মতোই ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করতে হবে।” দুর্নীতিগ্রস্তদের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, বিগত দিনে যারা সাধারণ মানুষের সম্পত্তি চুরি করেছে, তাদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.