পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডে বড়সড় সাফল্য পেল রাজ্য পুলিশ। বিহার ও উত্তরপ্রদেশে হানা দিয়ে মোট তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছেন তদন্তকারীরা। ধৃতদের মধ্যে উত্তরপ্রদেশের বালিয়া থেকে ধৃত রাজ সিংহকে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। রাজের পরিবারের দাবি, তাঁকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হয়েছে।
ভিন্রাজ্যে অভিযান ও গ্রেফতারি
তদন্তের স্বার্থে গঠিত বিশেষ দল (SIT) গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বিহার ও উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালায়। এই অভিযানেই জালে আসে তিন অভিযুক্ত:
- ময়াঙ্করাজ মিশ্র ও ভিকি মৌর্য: বিহারের বক্সার এলাকা থেকে গ্রেফতার।
- রাজ সিংহ: উত্তরপ্রদেশের বালিয়ার আনন্দনগর এলাকার বাসিন্দা।
ধৃতদের ট্রানজ়িট রিমান্ডে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়। সোমবার তাঁদের আদালতে পেশ করা হলে বিচারক অভিযুক্তদের ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
রাজের মায়ের পাল্টাদাবি ও সিবিআই তদন্তের আর্জি
ধৃত রাজ সিংহের মা, বালিয়া রসড়া ডাকঘরের কর্মী জামবন্তী সিংহ পুলিশের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, পুলিশ রাজকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছে। জামবন্তীর যুক্তিগুলি হলো:
- উপস্থিতির প্রমাণ: তাঁর দাবি, ৬ মে (খুনের দিন) রাজ বলিয়াতেই ছিলেন এবং স্থানীয় বাজার ও জিমের সিসিটিভি ফুটেজে তাঁর প্রমাণ রয়েছে।
- লখনউ সফর: ৭ মে তাঁরা একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে লখনউ গিয়েছিলেন। ৯ মে অযোধ্যা থেকে ফেরার পথে পুলিশ তাঁদের গাড়ি আটক করে রাজকে তুলে নিয়ে যায়।
- ষড়যন্ত্রের অভিযোগ: জামবন্তীর দাবি, রাজের কলকাতায় কোনও আত্মীয় নেই এবং তিনি কখনও সেখানে যাননি। তিনি এই ঘটনায় রাজ্য পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করে সিবিআই (CBI) তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
অপরাধমূলক অতীত ও পুলিশের অবস্থান
রাজ সিংহ নিজেকে ‘ক্ষত্রিয় মহাসভা’-র রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বলে পরিচয় দিলেও, পুলিশের নথিতে তাঁর অন্য পরিচয় মিলেছে। জেলা অপরাধ নথি ব্যুরো (DCRB)-র আধিকারিক বিপিন সিংহ জানিয়েছেন:
- পুরনো খুনের মামলা: ২০২০ সালের ১৩ অক্টোবর আনন্দনগরে এক ডিম ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় রাজকে আগেও গ্রেফতার করা হয়েছিল।
- অস্ত্র উদ্ধার: সেই সময় তাঁর কাছ থেকে বেআইনি পিস্তল ও কার্তুজ উদ্ধার হয়।
বালিয়ার পুলিশ সুপার ওমবীর সিংহ জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এই গ্রেফতারি নিয়ে স্থানীয় পুলিশকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও তথ্য জানায়নি।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
গত ৬ মে রাতে মধ্যমগ্রামে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে চন্দ্রনাথ রথকে খুন করা হয়। একটি চারচাকা গাড়ি দিয়ে তাঁর পথ আটকে দু’টি বাইকে আসা দুষ্কৃতীরা এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় চন্দ্রনাথের। চালক বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। খুনের ব্যবহৃত গাড়িতে ভুয়ো নম্বর প্লেট ব্যবহার এবং অনলাইনে টোল মেটানোর মতো সূত্রগুলি থেকেই পুলিশ ভিন্রাজ্যের এই শুটারদের হদিশ পায়।
তদন্তকারীদের মতে, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে এই হত্যাকাণ্ডের মূল চক্রী বা মাস্টারমাইন্ডের পরিচয় পরিষ্কার হবে।

