তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এক নতুন নক্ষত্রের উদয় হয়েছে। দক্ষিণী সুপারস্টার বিজয়ের দল ‘তামিলগা ভেট্টি কাড়াগাম’ (TVK)-এর মন্ত্রিসভায় কনিষ্ঠতম সদস্য হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন এস কীর্তন। বাজি শিল্পের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত বিরুদ্ধনগর জেলার শিবকাশী আসন থেকে জয়ী হয়ে এই কনিষ্ঠতম মুখ এখন রাজ্য রাজনীতির চর্চার কেন্দ্রে।
শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশাদার জীবন
১৯৯৬ সালে বিরুদ্ধনগর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন কীর্তন। এক সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা কীর্তনের শিক্ষাজীবন অত্যন্ত উজ্জ্বল:
- স্কুল: তামিল মাধ্যম সরকারি স্কুল।
- স্নাতক: মাদুরাই কামরাজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে স্নাতক।
- স্নাতকোত্তর: ২০১৯ সালে পুদুচেরি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাশিবিদ্যায় (Statistics) এমএসসি।
রাজনীতিতে সরাসরি যোগদানের আগে তিনি একাধারে দক্ষ ভোটকুশলী হিসেবে কাজ করেছেন। ‘শোটাই কনসালট্যান্ট’ এবং বিখ্যাত সংস্থা ‘আই-প্যাক’ (I-PAC)-এর সঙ্গে যুক্ত থেকে তিনি অন্ধ্রপ্রদেশে টিডিপি, তামিলনাড়ুতে ডিএমকে এবং পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী রণকৌশল সাজানোর নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
একাধিক ভাষায় দক্ষতা ও রাজনৈতিক দর্শন
ইংরেজি ও তামিল ছাড়াও হিন্দি এবং তেলুগু ভাষায় অনর্গল কথা বলতে পারেন কীর্তন। তাঁর মতে, একাধিক ভাষায় দক্ষতা থাকায় বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করা তাঁর জন্য সহজ হয়েছে।
রাজনীতিতে যোগ দেওয়া প্রসঙ্গে এনডিটিভি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কীর্তন বলেন:
“আমি সব সময় রাজনীতিতে আসতে চেয়েছিলাম। ভোটকুশলী হিসেবে কাজ করার সময় আমলাতন্ত্র ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা কীভাবে পরিচালিত হয়, তা খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতাকে এখন মানুষের কাজে লাগাতে চাই।”
নির্বাচনী সাফল্য ও বিজয়ের দলে যোগদান
শিবকাশী বিধানসভা কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থী অশোকান জি-র বিরুদ্ধে লড়েছিলেন কীর্তন। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর ১১ হাজার ৬৭০ ভোটে জয়ী হন তিনি। অন্যান্য প্রতিষ্ঠিত দল ছেড়ে কেন বিজয়ের টিভিকে-কে বেছে নিলেন? এই প্রশ্নের উত্তরে কীর্তনের দাবি:
- টিভিকে এমন একটি দল যেখানে সাধারণ মানুষের অবাধ প্রবেশাধিকার রয়েছে।
- রাজনৈতিক পরিচয় বা বিশাল অর্থবল না থাকলেও এখানে যোগ্যতার মূল্যায়ন হয়।
- মানুষের সেবার জন্য এই দলই আদর্শ মঞ্চ।
শিবকাশীর বাজি কারখানার শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের ঘরের মেয়ে হিসেবে পরিচিত এস কীর্তন এখন নতুন সরকারের সর্বকনিষ্ঠ মন্ত্রী হিসেবে গুরুদায়িত্ব পালনে প্রস্তুত। রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটকুশলী হিসেবে পর্দার আড়ালে থেকে কাজ করার পর, এবার সরাসরি প্রশাসনিক ময়দানে তাঁর দক্ষতা প্রমাণের পালা।

