তৃণমূলের হার ও রাজ্যে পালাবদল: তাপস পালের অপমানের খতিয়ান নিয়ে সরব স্ত্রী নন্দিনী

তৃণমূলের হার ও রাজ্যে পালাবদল: তাপস পালের অপমানের খতিয়ান নিয়ে সরব স্ত্রী নন্দিনী

রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর থেকেই জনমানসে জমে থাকা নানা ক্ষোভ ও দীর্ঘশ্বাস প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। এবার সেই তালিকায় যোগ হল প্রয়াত অভিনেতা তথা প্রাক্তন সাংসদ তাপস পালের পরিবারের নাম। রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আবহে মুখ খুললেন অভিনেতার স্ত্রী নন্দিনী পাল। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘ কয়েক দশক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থাকলেও, বিপদের দিনে নিজের দল বা নেত্রীকে পাশে পাননি তাপস পাল।


‘দিদির অনুরোধেই রাজনীতিতে আসা, কিন্তু প্রতিদান মেলেনি’

নন্দিনী পালের দাবি, ১৯৯৭ সাল থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী ছিলেন তাপস পাল। যখন টলিউডের প্রথম সারির কোনো তারকা তৃণমূল নেত্রীর সঙ্গে যুক্ত হতে সাহস পাননি, তখন বারবার তাঁদের বাড়িতে গিয়ে তাপসকে দলে আসার অনুরোধ করেছিলেন মমতা।

নন্দিনী বলেন, “তাপস ধান্ধাবাজ ছিল না। ওর একটাই সমস্যা ছিল— সব সিদ্ধান্ত অন্তর দিয়ে নিত, মাথা দিয়ে নয়। বাম আমলের সেই কঠিন সময়ে বহু বাধা উপেক্ষা করে মানুষ ওকে ভোট দিয়ে জিতিয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর দিদি ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে যান। ওঁর কাছে তাপসের প্রয়োজন ফুরিয়ে গিয়েছিল।”

চিটফান্ড বিতর্ক ও একাকীত্ব

চিটফান্ডকাণ্ডে তাপস পালের জড়িয়ে পড়া এবং তাঁর কারাবাস নিয়ে নন্দিনী দেবীর স্পষ্ট বক্তব্য, অভিনেতা পরিস্থিতির শিকার হয়েছিলেন। তিনি কোনো টাকা আত্মসাৎ করেননি বরং গরু পাচার ও চিটফান্ড নিয়ে দলের অন্দরেই সরব হয়েছিলেন। নন্দিনী পালের অভিযোগ, সেই দুঃসময়ে একবার ফোনে কথা বলতে চাইলেও তাপস পালের ফোন ধরেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

“ব্যবহার করে তাপসকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিলেন দিদি। তাপস আর দলের বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হয়েছিল,” আক্ষেপ নন্দিনী পালের।


চৌমুহাকাণ্ড ও ব্যক্তিগত আক্রমণ

নদিয়ার চৌমুহায় তাপস পালের বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে নন্দিনী ও তাঁর কন্যা সোহিনী পাল কখনও সমর্থন জানাননি। নন্দিনী দেবী স্বীকার করে নিয়েছেন যে ওটা অভিনেতার মস্ত ভুল ছিল এবং পরে অভিনেতা নিজেও তা অনুধাবন করেছিলেন। তবে সেই সময় তাপস পালের ব্যক্তিগত জীবন, তাঁর মা-বাবার সঙ্গে সম্পর্ক বা স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি নিয়ে যে সব তথ্য রটানো হয়েছিল, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ভুল বলে দাবি করেন তিনি।


পরিবর্তন প্রসঙ্গে কড়া বার্তা

রাজ্যের বর্তমান পালাবদলকে স্বাগত জানিয়ে নন্দিনী পাল বলেন, “এতদিন পশ্চিমবঙ্গ চালানো হচ্ছিল না, একটা ক্লাব চালানো হচ্ছিল। যে ভাবে রাজ্য শাসন করা হয়েছে, তার থেকে বাম আমল এমনকি ইংরেজ শাসনও ভালো ছিল।”

তিনি আরও যোগ করেন, “আমি চাই দিদি অনেক বছর বেঁচে থাকুন, যাতে তিনি উপলব্ধি করতে পারেন যে তিনি কী কী ভুল করেছেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে ওঁকে কোনোদিন ক্ষমা করতে পারব না। তাই আমার মনে হয়, এই পরিবর্তনের বিশেষ প্রয়োজন ছিল।” ৫৯ বছর বয়সে অকালপ্রয়াণ ঘটেছিল এই জনপ্রিয় অভিনেতার। আজ রাজনৈতিক পালাবদলের দিনে সেই পুরনো ক্ষত আবারও দগদগে হয়ে উঠল তাঁর পরিবারের কথায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.