পশ্চিমবঙ্গের নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নাম ঘোষণার পরেই নিজের রাজনৈতিক সংকল্প স্পষ্ট করে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আরজি কর আবহে নির্যাতিতার বিচার এবং সন্দেশখালি-সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে নারী নির্যাতনের ঘটনাগুলি খতিয়ে দেখতে নতুন করে তদন্ত কমিশন গঠন করবে তাঁর সরকার।
নিউ টাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে বিজেপির ২০৭ জন জয়ী বিধায়কের উপস্থিতিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ শুভেন্দু অধিকারীকে পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে ঘোষণা করেন। এর পরেই এক আবেগঘন অথচ দৃঢ় ভাষণে রাজ্যের হবু মুখ্যমন্ত্রী নারী নিরাপত্তা নিয়ে তাঁর প্রশাসনের অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরেন।
অমিত শাহের ‘চার্জশিট’ ও আগামীর দিশা
নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাজ্যে এসে যে ‘জনতার চার্জশিট’ প্রকাশ করেছিলেন, শুভেন্দু অধিকারীর এ দিনের ঘোষণায় তারই প্রতিফলন দেখা গেল। শুভেন্দু বলেন:
“চার্জশিট প্রকাশের দিন অমিত শাহজি বাংলার মানুষকে দু’টি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সন্দেশখালি থেকে আরজি কর— যেখানেই মা-বোন-কন্যাদের ওপর অত্যাচার হয়েছে, তা নিয়ে কমিশন বসবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা সেই পথেই হাঁটব।”
উল্লেখ্য, ওই চার্জশিটে বিগত সরকারের ১৫ বছরের শাসনকালকে আক্রমণ করে ১৫টি নির্দিষ্ট ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছিল, যার অন্যতম ছিল নারী নিরাপত্তা।
আরজি কর ও আন্দোলনের প্রেক্ষাপট
আরজি কর-কাণ্ড নিয়ে শুরু থেকেই রাজপথে সরব ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। জাতীয় পতাকা হাতে নবান্ন অভিযান থেকে শুরু করে বিধানসভা চত্বরে বিক্ষোভ— প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি সোচ্চার হয়েছেন। এদিন তিনি সেই স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে বলেন যে, অতীতে তাঁদের আন্দোলন পুলিশ দিয়ে আটকানো হলেও, এবার সরকারি স্তরেই ন্যাবিচারের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
উল্লেখ্য, আরজি করের নির্যাতিতার মা নির্বাচনের আগে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন এবং পানিহাটি কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছেন। নির্বাচনী প্রচারে তিনি বারবার বলেছিলেন, “মেয়ের বিচারের জন্য বিজেপির সঙ্গেই থাকা দরকার।” প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহও তাঁদের প্রচারে এই বিষয়টিকেই তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন।
দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস
রাজনৈতিক মহলের মতে, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর এই ঘোষণা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে:
- আরজি করের ঘটনার বিচার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে বিশেষ কমিশন গঠন করা হবে।
- সন্দেশখালি ও কসবা ল কলেজের মতো ঘটনাগুলোতে যারা অভিযুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে।
রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের হাতে বিধায়কদের স্বাক্ষরপত্র জমা দিয়ে ইতিমধ্যেই সরকার গঠনের দাবি জানিয়েছে বিজেপি। শনিবার শপথগ্রহণের পরেই এই কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। শুভেন্দু অধিকারীর এই বার্তায় পরিষ্কার— নতুন সরকারের আমলে ‘বিচার’ এবং ‘সুশাসন’ই হতে চলেছে প্রধান স্তম্ভ।

