নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও রাজ্যের একাধিক জেলায় ভোট-পরবর্তী অশান্তি অব্যাহত। বুধবারও দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে পশ্চিম মেদিনীপুর— বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ সামনে এসেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কড়া অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না।
ক্যানিংয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলা, আটক ২০
বুধবার সকালে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং পশ্চিমের নারায়ণপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা। স্থানীয় সূত্রের খবর, পঞ্চায়েত দখলকে কেন্দ্র করে মাখালতলায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। উত্তেজিত জনতা পুলিশের একাধিক গাড়ি ভাঙচুর করে।
এই ঘটনার নেপথ্যে রহিমা লস্কর ওরফে বেবি নামে এক প্রাক্তন তৃণমূল নেত্রীর নাম উঠে এসেছে। অভিযোগ, তিনি রাতারাতি দল বদলে বিজেপিতে যোগ দিয়ে অনুগামীদের নিয়ে তাণ্ডব চালিয়েছেন। তৃণমূল কর্মীদের বাড়িতেও হামলার অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই রহিমা লস্কর সহ অন্তত ২০ জনকে আটক করেছে।
খড়্গপুরে তৃণমূল কার্যালয় ভাঙচুর
অশান্তির আঁচ পৌঁছেছে খড়্গপুর গ্রামীণ এলাকাতেও। সেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের একটি কার্যালয় ভাঙচুর করার অভিযোগ উঠেছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই ঘটনার জন্য বিজেপিকে দায়ী করা হলেও, গেরুয়া শিবির সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বিজেপির দাবি, যারা অশান্তি করছে তারা আদতে তৃণমূলেরই লোক, যারা এখন বিজেপির পরিচয় দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে।
প্রশাসনের কড়া অবস্থান: ২০০টি এফআইআর, গ্রেপ্তার ৪৩৩
রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার ভবানী ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করেন ভারপ্রাপ্ত ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত। তিনি জানান:
- ভোট-পরবর্তী অশান্তির ঘটনায় এ পর্যন্ত মোট ২০০টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
- ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৪৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
- সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে প্রায় ১১০০ জনকে আটক করা হয়েছে।
ডিজি স্পষ্ট জানান, “আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে থানায় জানান।” পাশাপাশি, কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীদের গাফিলতি থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
নিষিদ্ধ জেসিবি ও বুলডোজার মিছিল
বিজয় মিছিলে জেসিবি বা বুলডোজারের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে পুলিশ। কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ জানিয়েছেন, কোনোভাবেই বুলডোজার নিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো যাবে না। এমনকি, যে সমস্ত মালিকরা মিছিলে জেসিবি ভাড়া দেবেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজ্যের প্রতিটি জেলার পুলিশ সুপারদেরও একইভাবে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিজেপির সাফাই
ভোট-পরবর্তী হিংসায় দলের যোগসূত্র অস্বীকার করেছে বিজেপি। দলের নেতা দেবজিৎ সরকার এক সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, “তৃণমূলের কিছু দুষ্কৃতী রাতারাতি বিজেপির পতাকা হাতে নিয়ে এই সব অশান্তি করছে। বিজেপি এই ধরণের স্বঘোষিত নেতাদের সমর্থন করে না। যারা এতদিন মানুষের ওপর অত্যাচার করেছে, তাদের বিজেপিতে কোনো স্থান নেই।”
রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে শান্তি বজায় রাখতে পুলিশের টহলদারি বাড়ানো হয়েছে এবং স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে।

