ব্যক্তিগত নজির বা পরিসংখ্যান নিয়ে তিনি খুব একটা মাথা ঘামান না। বরং দলগত সাফল্য এবং ট্রফি জয়ের ক্ষুধাই তাঁর কাছে আসল। শুক্রবার রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে এক সাক্ষাৎকারে নিজের ক্রিকেটীয় দর্শন ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য নিয়ে অকপট ধরা দিলেন লখনউ সুপার জায়ান্টস অধিনায়ক কেএল রাহুল। জানালেন, ব্যক্তিগত রানে মহেন্দ্র সিংহ ধোনিকে টপকানোর চেয়েও ধোনির মতো পাঁচটি আইপিএল ট্রফি জয়ই তাঁর কাছে বড় প্রাপ্তি হবে।
ধোনির রেকর্ড ও ট্রফি জয়ের আকাঙ্ক্ষা
সম্প্রতি আইপিএলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকায় মহেন্দ্র সিংহ ধোনিকে ছাপিয়ে গিয়েছেন রাহুল। তবে এই রেকর্ডের বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না বলেই জানান। রাহুলের কথায়:
- মাইলফলক বনাম সাফল্য: “আমি জানতামই না যে মাহি ভাইকে টপকে গিয়েছি। মাইলফলক ভালো, কারণ এটি বুঝিয়ে দেয় আমি সঠিক পথে আছি। কিন্তু ধোনির মতো অতগুলো ট্রফি জিততে পারলে তবেই আমি প্রকৃত অর্থে খুশি হব।”
- দলগত সংহতি: রাহুল মনে করেন ক্রিকেট একটি দলগত খেলা। তাই ব্যক্তিগত রেকর্ডের চেয়ে সফল দলের অংশ হওয়া এবং ট্রফি জয়ই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
তরুণ প্রজন্মের ব্যাটিংয়ে মুগ্ধ রাহুল
আইপিএলের মঞ্চে বৈভব সূর্যবংশী, অভিষেক শর্মা বা যশস্বী জয়সওয়ালের মতো তরুণ ওপেনারদের বিধ্বংসী ব্যাটিং দেখে রীতিমতো অবাক রাহুল। আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তাঁদের ‘ভয়ডরহীন’ মানসিকতার প্রশংসা করে তিনি বলেন:
- নির্ভীক ব্যাটিং: “ওরা বুমরাহ বা কামিন্সের মতো বিশ্বসেরা বোলারদের নাম দেখে ভয় পায় না। বল দেখে সরাসরি মাঠের বাইরে পাঠায়। এটাই আধুনিক ক্রিকেটের চাহিদা।”
- বিস্ময় বালক বৈভব: মাত্র ১৫ বছর বয়সী বৈভব সূর্যবংশীর প্রতিভা নিয়ে রাহুল বলেন, “এই বয়সে দুটো শতরান করার কথা আমি স্বপ্নেও ভাবিনি। এছাড়া আয়ুষ মাত্রের ব্যাটিংও অসাধারণ।”
- ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ: রাহুলের মতে, ভারত থেকে যেভাবে টি-টোয়েন্টি বিশেষজ্ঞ প্রতিভা উঠে আসছে, তা বিশ্বের যে কোনও দলের জন্য রীতিমতো ভয়ের কারণ হতে পারে।
চিন্নাস্বামী ও আরসিবি কানেকশন
কর্ণাটকের ভূমিপুত্র হিসেবে এম. চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের সঙ্গে রাহুলের আবেগ জড়িয়ে রয়েছে। এক সময় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (RCB)-র হয়ে খেলার স্মৃতি রোমন্থন করে তিনি জানান, আরসিবির বিরুদ্ধে নামলে তাঁর খেলার মান অন্য উচ্চতায় পৌঁছে যায়।
“চিন্নাস্বামীতে খেললে আমার মনের মধ্যে কোনও একটা সুইচ যেন অন হয়ে যায়। এই মাঠেই খেলে আমি বড় হয়েছি। শুধু আরসিবির বিরুদ্ধে নয়, আন্তর্জাতিক ম্যাচেও এই মাঠে নামলে আমার মানসিকতায় এক অদ্ভুত বদল আসে, যা আমাকে ভালো পারফর্ম করতে সাহায্য করে।”
আগামী ৪ মে যখন বাংলার রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারিত হবে, তখন ক্রিকেট ময়দানে রাহুলের এই আত্মবিশ্বাস লখনউয়ের ভাগ্য বদলে দিতে পারে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে ক্রিকেট প্রেমীরা।

