জাতীয় রাজনীতিতে এক অভাবনীয় পটপরিবর্তন ঘটল। আম আদমি পার্টির (আপ) সাতজন রাজ্যসভা সাংসদ দলত্যাগ করে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। এই দলবদলের ফলে সংসদের উচ্চকক্ষে বিজেপির শক্তি যেমন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেল, তেমনই বিরোধী শিবিরে আম আদমি পার্টির প্রভাব কার্যত সংকুচিত হয়ে এল।
দলত্যাগ করলেন যাঁরা: কেজরিওয়ালের হাত ছেড়ে পদ্মশিবিরে নাম লেখানো সাংসদদের তালিকায় রয়েছেন রাঘব চড্ডা, স্বাতী মালিওয়াল, কিংবদন্তি ক্রিকেটার হরভজন সিং, অশোক মিত্তাল, সন্দীপ পাঠক, রাজবিন্দর গুপ্তা এবং বিক্রম সাহানি।
রাজ্যসভার অঙ্ক ও বিজেপির শক্তি বৃদ্ধি: বর্তমানে রাজ্যসভার মোট ২৪৫টি আসনের মধ্যে বিজেপির হাতে ছিল ১০৬টি আসন। আপের সাত সাংসদ যোগ দেওয়ায় সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৩-তে। এনডিএ জোটের সম্মিলিত আসন সংখ্যা এখন ১৪৬।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যসভার ম্যাজিক ফিগার (যা বর্তমান শূন্য আসন অনুযায়ী ১২৬-এর আশেপাশে) অর্জনের পথে বিজেপি অনেকটা এগিয়ে গেল। রাজ্যসভার বর্তমান চিত্রটি নিচে তুলে ধরা হলো:
- বিজেপি (একক): ১১৩ আসন
- এনডিএ জোট: ১৪৬ আসন
- বিরোধী শিবির: বর্তমানে বিরোধী শিবিরে মোট সাংসদ সংখ্যা ৭৫। এর মধ্যে কংগ্রেসের ২৯, তৃণমূলের ১৩, ডিএমকে-র ৮, সমাজবাদী পার্টির ৪ এবং বামেদের ৬টি আসন রয়েছে।
- আপ-এর বর্তমান অবস্থা: একসময়ের ১০ জন সাংসদ থেকে আম আদমি পার্টির বর্তমান সদস্য সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৩-এ।
কেন এই দলবদল বিজেপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অভিমত, লোকসভার তুলনায় রাজ্যসভায় বিজেপির এই বিপুল শক্তি বৃদ্ধি মোদী সরকারের জন্য স্বস্তিদায়ক। আগামী দিনে যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস করার ক্ষেত্রে রাজ্যসভার গণ্ডি পার হওয়া বিজেপির কাছে এখন অনেকটাই সহজতর হবে। চলতি বছরের শেষের দিকে রাজ্যসভার আরও ৩৪টি আসনের নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। সেই নির্বাচনেও বিজেপির আসন সংখ্যা ১২০-এর গণ্ডি ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা বিরোধীদের কোণঠাসা করার জন্য যথেষ্ট।
সামগ্রিকভাবে, আপের এই ভাঙন জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপির আধিপত্যকে আরও সুসংহত করল। সংসদীয় রাজনীতিতে আপের এই ‘নিশ্চিহ্ন’ হওয়ার প্রবণতা বিরোধী জোটের ঐক্যের ক্ষেত্রে বড় ধাক্কা হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

