আমেরিকা-ইরান শান্তি আলোচনা কি ফের শুরু হচ্ছে? ইসলামাবাদ সফরে ইরানের বিদেশমন্ত্রী

আমেরিকা-ইরান শান্তি আলোচনা কি ফের শুরু হচ্ছে? ইসলামাবাদ সফরে ইরানের বিদেশমন্ত্রী

দীর্ঘ অচলাবস্থা কাটিয়ে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে ফের শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কূটনৈতিক ও পাকিস্তানি সূত্রের খবর অনুযায়ী, ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি শুক্রবার গভীর রাতে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে পৌঁছাচ্ছেন। এই সফর ঘিরে দুই দেশের নতুন করে আলোচনায় বসার জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে।

আলোচনার প্রেক্ষাপট ও বর্তমান পরিস্থিতি:

  • সফরের গুরুত্ব: পাকিস্তানের সরকারি সূত্রে রয়টার্সকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে ইসলামাবাদের একটি মার্কিন নিরাপত্তা প্রতিনিধিদল অবস্থান করছে। যদিও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সের নেতৃত্বাধীন মূল আলোচনা প্রতিনিধিদল পাকিস্তানে নেই, তবে নিরাপত্তা প্রতিনিধিদলের উপস্থিতি সম্ভাব্য বৈঠকের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
  • বিগত বিবাদ: এর আগে ইসলামাবাদেই দুই দেশের প্রথম দফার শান্তি বৈঠক হয়েছিল। প্রায় ২০ ঘণ্টা আলোচনার পরেও কোনো সুনির্দিষ্ট চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি দুই পক্ষ। পরবর্তী পর্যায়ে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে মার্কিন অবরোধের প্রতিবাদে ইরান গত মঙ্গলবার আলোচনার টেবিলে বসতে অস্বীকার করে। যার ফলে জেডি ভান্সের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রতিনিধিদলের পাকিস্তান সফর বাতিল হয়।
  • বর্তমান টানাপড়েন: যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়িয়ে ১ মে পর্যন্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা এখনো প্রশমিত হয়নি। দুই দেশের মধ্যে পালটাপালটি হুঁশিয়ারি অব্যাহত রয়েছে।

অন্যান্য কূটনৈতিক তৎপরতা: আব্বাস আরাঘচির পাকিস্তান সফরের পাশাপাশি ওমান ও রাশিয়ায় যাওয়ার কথাও রয়েছে। ইরান নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম আইআরএনএ সূত্রে জানা গেছে, এই সফর মূলত আঞ্চলিক কূটনীতির অংশ। এদিকে, লেবানন ও ইজরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও তিন সপ্তাহ বাড়ানো এবং দুই দেশের প্রতিনিধিদের হোয়াইট হাউসে আলোচনার বিষয়টি ঘোষণা করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ঠিক সেই সময়েই ইরানের বিদেশমন্ত্রীর পাকিস্তান সফর আন্তর্জাতিক মহলে বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

তবে এই সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে তেহরান কিংবা ওয়াশিংটন—কোনো তরফ থেকেই এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। পাকিস্তান বর্তমানে এই আলোচনার মঞ্চ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। শান্তি আলোচনার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো ও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা মার্কিন প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদে থাকায়, এখন দেখার বিষয়—আগামী কয়েক দিনে দুই দেশ ফের আলোচনার টেবিলে বসে কোনো স্থায়ী সমাধান খুঁজে পায় কি না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.