আরজি কর হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই শিয়ালদহ আদালতে তাদের তদন্তের ‘স্টেটাস রিপোর্ট’ জমা দিয়েছে। বৃহস্পতিবারের এই শুনানিতে তদন্তের বর্তমান অগ্রগতি নিয়ে সিবিআইয়ের আইনজীবী জানিয়েছেন, নতুন করে সাতজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে মামলার এই পর্যায়ে এসে তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নির্যাতিতার আইনজীবী।
পরিবারের অবস্থান ও ধোঁয়াশা: ঘটনার শুরু থেকে পুলিশের তদন্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে সিবিআই তদন্তের দাবি তুলেছিলেন নির্যাতিতার বাবা-মা। আদালতের নির্দেশে সিবিআই তদন্তভার গ্রহণের পরেও, সঞ্জয় রায় বাদে নতুন কোনো গ্রেফতারি না হওয়ায় তারা একাধিকবার ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছিলেন। তবে বৃহস্পতিবার আদালতের বাইরে এই বিষয়ে কিছুটা ভিন্ন মেজাজে দেখা গেল তাঁদের।
প্রথমে সিবিআইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগের কথা উল্লেখ করলেও পরে নির্যাতিতার মা বলেন, “এখন আর সিবিআইয়ের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই।” অন্যদিকে, নির্যাতিতার বাবা এই বিষয়ে মন্তব্য করা থেকে বিরত থেকে জানান, ৪ মে-র পর এ নিয়ে বিস্তারিত কথা বলবেন।
আদালতে আইনজীবীর তোপ: পরিবারের সদস্যরা প্রকাশ্যে সংযত থাকলেও, আদালতের ভেতরে নির্যাতিতার আইনজীবীরা কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের দাবি, “এই অপরাধ কেবল সঞ্জয় রায়ের একার পক্ষে করা সম্ভব নয়, এর সঙ্গে আরও বড় কোনো চক্র জড়িয়ে আছে।”
আইনজীবীর অভিযোগ, “সিবিআই সঞ্জয় রায়কে আড়াল করার চেষ্টা করছে। হাইকোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তাকে সঠিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে না। কেন্দ্রীয় সংস্থা কেবল ‘যদি প্রয়োজন’ শব্দবন্ধের আড়ালে তদন্তকে দীর্ঘায়িত করছে। যদি তাদের জেরার প্রয়োজন না থাকে, তবে তা যেন লিখিতভাবে আদালতে জানানো হয়।”
তদন্তের বর্তমান পরিস্থিতি: উল্লেখ্য, আরজি করের ঘটনার পর পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায় বর্তমানে দোষী সাব্যস্ত হয়ে যাবজ্জীবন কারাবাসের সাজা ভোগ করছে। কিন্তু পরিবার ও আইনজীবীদের সন্দেহ, এই ঘটনায় কেবল একজন নয়, আরও অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে। সিবিআইয়ের জমা দেওয়া রিপোর্টে নতুন করে সাতজনকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা উল্লেখ করা হলেও, তদন্তের মোড় কোনদিকে ঘোরে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে এখন বিচারব্যবস্থা ও সাধারণ মানুষ। পরবর্তী পর্যায়ে তদন্ত কোন পথে এগোয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

