পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের উত্তাল প্রচারের মাঝেও আধ্যাত্মিক শান্তির খোঁজে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বেলুড় মঠে সময় কাটালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রচারের ব্যস্তসূচি থেকে সাময়িক বিরতি নিয়ে তিনি রামকৃষ্ণ সঙ্ঘের প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ, মা সারদা ও স্বামী বিবেকানন্দের প্রতি।
ব্যক্তিগত আবেগ ও মঠের সঙ্গে সম্পর্ক: শৈশব থেকেই নরেন্দ্র মোদীর আধ্যাত্মিক যাত্রায় রামকৃষ্ণ সঙ্ঘের প্রভাব অনস্বীকার্য। সন্ন্যাস গ্রহণের প্রবল বাসনা নিয়ে তিনি অতীতে একাধিকবার মঠের বিভিন্ন শাখায় ছুটে গিয়েছিলেন। শোনা যায়, তৎকালীন সন্ন্যাসীদের পরামর্শেই তিনি সন্ন্যাস না নিয়ে সামাজিক কাজে নিজেকে উৎসর্গ করেন। আরএসএস এবং পরবর্তীকালে বিজেপির দীর্ঘ যাত্রাপথেও মঠের সঙ্গে তাঁর গভীর যোগসূত্র বজায় ছিল। এমনকি, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার শপথ নেওয়ার আগেও বেলুড় মঠ থেকে তাঁর কাছে প্রসাদী ফুল পাঠানো হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর এই মঠ-প্রীতি রাজনৈতিক মহলে সুবিদিত।
মঠ সফর ও রোড শো: বৃহস্পতিবার নির্ধারিত সময়ের কিছুটা দেরিতে হাওড়ায় পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। কৃষ্ণনগর ও কাকদ্বীপের জনসভা সেরে বেলুড় মঠে পৌঁছোনোর পর তিনি সঙ্ঘাধ্যক্ষ স্বামী গৌতমানন্দের সঙ্গে দেখা করেন। মঠের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখার পাশাপাশি গঙ্গার ধারের বারান্দায় কিছুটা সময় অতিবাহিত করেন। এই সফরটিকে সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে অত্যন্ত সতর্ক ছিলেন মোদী; মঠের ভেতরে দলের কোনো নেতা বা কর্মীকে তিনি সঙ্গে নেননি।
মঠ সফর শেষ করে প্রধানমন্ত্রী বেলুড়ে একটি রোড শো-তে অংশ নেন। হাওড়া ও বেলুড়ের এই কর্মসূচি শেষ করে তিনি রাতে কলকাতায় লোকভবনে ফিরে যান।
শুক্রবার মোদীর কর্মসূচী: আগামী শুক্রবারও রাজ্যে জোড়া জনসভা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। প্রথম সভাটি উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটিতে, যেখানে আরজি করের নির্যাতিতার মায়ের সমর্থনে তিনি প্রচার চালাবেন। এরপর দক্ষিণ ২৪ পরগনার যাদবপুর সাংগঠনিক জেলায় দ্বিতীয় জনসভায় ভাষণ দেবেন তিনি।
একদিকে যখন রাজ্যের ভোটপ্রক্রিয়াকে ঘিরে রাজনৈতিক লড়াই চরমে, তখন প্রধানমন্ত্রীর এই মঠ সফর জনমানসে তাঁর ব্যক্তিগত ভাবমূর্তির এক ভিন্ন দিক পুনরায় সামনে নিয়ে এল।

