নিজের বিরুদ্ধে কৃষ্ণনগর আদালত থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির খবরে বুধবার সকাল থেকেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে সাহিত্যিক শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক মহলে। বুধবার সকালে খবরটি প্রথম জানতে পেরে বিস্মিত সাহিত্যিক জানান, এমন কোনো ঘটনা সম্পর্কে তিনি সম্পূর্ণ অবগত ছিলেন না এবং তাঁর কাছে কোনো সমনও এসে পৌঁছায়নি।
কী জানিয়েছেন শ্রীজাত? বুধবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শ্রীজাত বলেন, “বুধবার সকালে খবরটি পাওয়ার পর আমি নিজেই সত্যতা যাচাইয়ের চেষ্টা করছিলাম, কারণ থানা থেকে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। কিন্তু পরে বিশ্বস্ত সূত্রে নিশ্চিত হতে পেরেছি যে, সত্যিই আমার নামে পরোয়ানা জারি হয়েছে। এটি এখন লালবাজারে এলে স্থানীয় থানার মাধ্যমে পরবর্তী প্রক্রিয়া শুরু হবে।”
২০১৯ সালের একটি পুরনো মামলার প্রেক্ষিতে ২০২৬ সালে এসে নির্বাচনের ঠিক প্রাক্কালে এই পরোয়ানা জারি হওয়ায় অবাক সাহিত্যিক। তিনি বলেন, “শুনছি চলতি বছরের শুরুতে নাকি আমার ও আমার স্ত্রী দূর্বার নামে আদালতে হাজিরা দেওয়ার সমন এসেছিল। কিন্তু আমরা এমন কোনো চিঠি বা বিজ্ঞপ্তি পাইনি। পেলে অবশ্যই তা গুরুত্ব সহকারে দেখতাম।”
বিভ্রান্তি ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন: এদিকে, এই গ্রেফতারি পরোয়ানা সংক্রান্ত খবরকে ‘ভুয়ো’ বলে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে বলে খবর রটেছে। এই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে শ্রীজাত বলেন, “আমি বা আমার পরিবার এই পরোয়ানা নিয়ে কাউকে দায়ী করার আগেই কেন নির্বাচন কমিশন এই খবর ভুয়ো বলে ঘোষণা করতে এগিয়ে এল, তা আমার কাছে বড় প্রশ্ন। আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হচ্ছে, কিন্তু কেন আমি নিজে থেকে কমিশনকে যোগাযোগ করব তা স্পষ্ট নয়। এই ধরণের বক্তব্যে জনমানসে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, যা নির্বাচনের মুখে অনভিপ্রেত।”
পুরনো কবিতার প্রসঙ্গ: নিজেকে ও নিজের পরিবারকে এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় প্রস্তুত বলে দাবি করেছেন শ্রীজাত। তিনি জানান, প্রায় ন’বছর আগে তাঁর একটি লেখাকে কেন্দ্র করে যে উত্তাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, এটি যেন সেই অধ্যায়েরই একটি নতুন সংযোজন। তিনি বলেন, “আমার কোনো লেখা বা কবিতা নিয়েই সম্ভবত এই মামলা। ভাবলে অবাক লাগে, ১০ বছর পুরনো একটি কবিতার ছায়া আজও রাষ্ট্রকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে।” প্লেটোর দর্শনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কবি ও সাহিত্যিকদের বাক-স্বাধীনতা বর্তমান রাষ্ট্র ব্যবস্থায় কতটা সুরক্ষিত।
আপাতত আদালতের নির্দিষ্ট পরোয়ানা তাঁর কাছে পৌঁছানোর অপেক্ষায় রয়েছেন শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে ভোটের মরসুমে এই ঘটনা যে এক নতুন রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।

