মদের দোকান বন্ধে কমিশনের কোনো নির্দেশ নেই: আবগারি দপ্তরের সিদ্ধান্তে বিস্ময় সিইও-র

মদের দোকান বন্ধে কমিশনের কোনো নির্দেশ নেই: আবগারি দপ্তরের সিদ্ধান্তে বিস্ময় সিইও-র

বিধানসভা ভোটকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে মদের দোকান ও পানশালা বন্ধ রাখার সরকারি নির্দেশিকা নিয়ে এবার খোদ নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই প্রশ্ন উঠল। মঙ্গলবার সিইও মনোজ অগ্রবাল সাফ জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে দোকান বন্ধ রাখার মতো কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি। কেন আবগারি দপ্তর এই সিদ্ধান্ত নিল, তা জানতে চেয়ে আবগারি কমিশনারের কাছে ব্যাখ্যা তলব করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বিতর্কের কেন্দ্রে আবগারি দপ্তরের সিদ্ধান্ত

সাধারণত নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকায় মদের দোকান বন্ধ রাখার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু রাজ্য সরকারের আবগারি দপ্তর গত সোমবার থেকেই কলকাতা-সহ রাজ্যের সব জেলায় দোকান ও পানশালা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিল। শুধু তাই নয়, কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগনার মতো এলাকাগুলোতে যেখানে ২৯ এপ্রিল ভোট, সেখানেও কেন এক সপ্তাহ আগে থেকে দোকান বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হলো, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি।

কী বলছে নির্দেশিকা?

আবগারি দপ্তরের নির্দেশিকায় ২০ থেকে ২৩ এপ্রিল এবং ২৫ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টা থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত মদের দোকান বন্ধ রাখার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। এছাড়া ৪ মে গণনা দিবসেও দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। দপ্তরের যুক্তি ছিল, ১৯৯৮ সাল থেকেই ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে দোকান বন্ধের দস্তুর রয়েছে, এবং এবার সেই সময়সীমা দ্বিগুণ বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু এই বাড়তি সময়সীমা কেন এবং কীসের ভিত্তিতে—তার কোনো সদুত্তর রাজ্য সরকার বা আবগারি দপ্তরের তরফে মেলেনি।

সিইও-র বিস্ময় ও প্রশাসনিক জট

সিইও মনোজ অগ্রবালের মন্তব্যে স্পষ্ট, আবগারি দপ্তর স্বতঃপ্রণোদিত হয়েই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা নির্বাচন কমিশনের সাথে কোনো আলোচনাসাপেক্ষ নয়। মনোজ মঙ্গলবার স্পষ্টভাবে জানান, “আমি শুনে অবাক হয়েছি। কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা জানতে চাইব।” এই মন্তব্যের পর থেকে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, নির্বাচনের সাথে সম্পর্কিত একটি বিষয়ে কমিশনকে অন্ধকারে রেখে রাজ্য সরকার কেন এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করল?

ভোটের মুখে এই ধোঁয়াশা সাধারণ মানুষকে যেমন সমস্যায় ফেলেছে, তেমনই নির্বাচন পরিচালনা প্রক্রিয়ায় রাজ্য সরকার ও কমিশনের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবকেও প্রকট করে তুলেছে। এখন আবগারি কমিশনার এই বিষয়ে কী ব্যাখ্যা দেন, সেদিকেই তাকিয়ে আছে সংশ্লিষ্ট মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.