রাজ্যে ভোটপর্ব অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও আঁটসাঁট করল নির্বাচন কমিশন। সাম্প্রতিক নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, ভোট দিতে যাওয়ার সময় এবার থেকে ভোটারদের পরিচয়পত্র দু’টি পৃথক ধাপে যাচাই করা হবে। এই দু’টি ধাপ সফলভাবে অতিক্রম করার পরই সংশ্লিষ্ট ভোটার বুথের ভেতরে প্রবেশাধিকার পাবেন।
ভোটার পরিচয় যাচাইয়ের নতুন নিয়ম
কমিশনের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে দু’টি পর্যায় থাকবে: ১. প্রথম ধাপ (কেন্দ্রীয় বাহিনী): ভোটকেন্দ্রে মোতায়েন থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা প্রথম ধাপে ভোটারদের পরিচয়পত্র পরীক্ষা করবেন। এক্ষেত্রে কমিশনের নির্ধারিত পরিচয়পত্রগুলির মধ্যে যেকোনো একটির ‘মূল কপি’ (Original Copy) থাকা বাধ্যতামূলক। মূল নথি না থাকলে কাউকে প্রথম ধাপে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। ২. দ্বিতীয় ধাপ (বিএলও): প্রথম ধাপ পেরিয়ে ভোটাররা পৌঁছাবেন ভোটকেন্দ্রে স্থাপিত ‘ভোটার সহায়তা বুথ’-এ। সেখানে বুথস্তরের আধিকারিক বা বিএলও (BLO) পুনরায় পরিচয়পত্র যাচাই করবেন এবং নিশ্চিত করবেন যে সঠিক ব্যক্তিই ভোট দিতে এসেছেন।
এই পুরো প্রক্রিয়াটি কঠোরভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা সরাসরি নজরদারি করবেন সেক্টর অফিসাররা।
এলাকাভিত্তিক নিরাপত্তা ও নিষেধাজ্ঞা
ভোটের দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কমিশন আরও কিছু কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে:
- ১৬৩ ধারা: ভোটের আগের ৪৮ ঘণ্টা এলাকায় কোনো ধরনের বেআইনি জমায়েত রুখতে ১৬৩ ধারা জারি করা হবে।
- ১০০ মিটার পরিধি: ভোটকেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যে নির্বাচনী প্রচার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ওই এলাকাটি রঙ বা চক দিয়ে চিহ্নিত করতে হবে যাতে তা স্পষ্টভাবে বোঝা যায়।
- জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ: ভোটার নন এমন কোনো ব্যক্তিকে ভোটকেন্দ্র বা তার আশপাশের সরু গলিগুলোতে জমায়েত করতে দেওয়া হবে না।
- সংবেদনশীল এলাকায় নজরদারি: যে সব এলাকা থেকে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার অভিযোগ বেশি, সেই জায়গাগুলোতে বিশেষ নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রচারের সময়সীমা ও প্রস্তুতি
রাজ্যে প্রথম দফার ভোট আগামী বৃহস্পতিবার এবং দ্বিতীয় দফার ভোট ২৯ এপ্রিল। কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী:
- প্রথম দফার ‘সাইলেন্স পিরিয়ড’ বা প্রচারপর্বের সমাপ্তি ঘটছে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে।
- দ্বিতীয় দফার প্রচার শেষ হবে ২৭ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টায়।
ভোটের আগের এই ৪৮ ঘণ্টা নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করতে রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর আধিকারিকদের সঙ্গে ইতিমধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সেরেছে সিইও (CEO) দপ্তর। কমিশনের এই কড়া পদক্ষেপের ফলে ভোটের দিন বুথগুলোতে কোনো ধরনের অনভিপ্রেত পরিস্থিতি তৈরি হবে না বলেই আশা করছে নির্বাচন কমিশন।

