দেশের সংসদীয় ইতিহাসে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপের পথে পা বাড়াল নরেন্দ্র মোদী সরকার। আগামী ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকেই মহিলাদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষিত করার লক্ষ্যে চলতি সপ্তাহেই সংসদে সংবিধান সংশোধনী বিল আনতে চলেছে কেন্দ্র। এই বিলের পোশাকি নাম দেওয়া হয়েছে ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’।
সোমবার দিল্লিতে আয়োজিত এক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই সিদ্ধান্তকে “একুশ শতকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত” বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “নারীদের শক্তি ও সম্মানের প্রতি উৎসর্গীকৃত এই বিল পাশ করে সংসদ দেশের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচনার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে রয়েছে।”
তিন দিনের বিশেষ অধিবেশন
মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত এই সংশোধনী বিল পাশের উদ্দেশ্যে বাজেট অধিবেশনের মেয়াদ বৃদ্ধি করে আগামী ১৬ থেকে ১৮ এপ্রিল তিন দিনের বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়েছে। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পাশ হওয়া ১০৬-তম সংবিধান সংশোধনী আইনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ রদবদল ঘটিয়ে এই নতুন বিল আনা হচ্ছে। সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন লোকসভার প্রথম মহিলা স্পিকার মীরা কুমারও।
আসন সংখ্যা ও পুনর্বিন্যাসের নতুন সমীকরণ
২০২৩ সালের মূল আইন অনুযায়ী, নতুন জনগণনা ও সীমানা পুনর্বিন্যাসের (Delimitation) পর ২০৩৪ সালের আগে মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর হওয়া সম্ভব ছিল না। কিন্তু প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী:
- ২০২৭-এর জনগণনার অপেক্ষা না করে ২০১১-র জনগণনার ভিত্তিতেই লোকসভার আসন সংখ্যা এবং পুনর্বিন্যাস করা হবে।
- লোকসভার মোট আসন সংখ্যা এবং প্রতিটি রাজ্যের আসন সংখ্যা ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হবে।
- এর ফলে লোকসভার বর্তমান ৫৪৩টি আসন বেড়ে হবে ৮১৬টি।
- বর্ধিত আসনের এক-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ২৭২টি আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।
রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও বিরোধীদের অবস্থান
সংবিধান সংশোধনীর জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা বর্তমানে সরকারের নেই। ফলে বিলটি পাশ করাতে বিরোধী শিবিরের সমর্থনের প্রয়োজন পড়বে মোদী সরকারের। অধিকাংশ বিরোধী দল মহিলা সংরক্ষণের পক্ষে থাকলেও, আসন পুনর্বিন্যাসের পদ্ধতি নিয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে। বিশেষত পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর ভোটের মুখে আদর্শ আচরণবিধি জারি থাকা সত্ত্বেও কেন্দ্র যেভাবে এই বিল নিয়ে এগোচ্ছে, তাকে ‘রাজনৈতিক ফায়দা’ তোলার চেষ্টা হিসেবেই দেখছে বিরোধীরা।
প্রধানমন্ত্রী অবশ্য জানিয়েছেন, ৪০ বছর ধরে ঝুলে থাকা এই বিলটি ২০২৯ সালের মধ্যেই কার্যকর করা উচিত। এখন দেখার বিষয়, বিশেষ অধিবেশনে এই বিল ঘিরে সংসদের দুই কক্ষে রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়।

