বিধানসভা নির্বাচনের হাই-ভোল্টেজ লড়াইয়ে নামছে উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্য অসম, দক্ষিণ ভারতের কেরল এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরি। আজ মঙ্গলবার বিকেলে এই তিন অঞ্চলেই প্রচারের সময়সীমা শেষ হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর সঙ্গেই আগামী ৪ মে ঘোষিত হবে এই নির্বাচনের ফলাফল।
এক নজরে তিন রাজ্যের নির্বাচনী চিত্র
তিনটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলেই এক দফায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের রাজনৈতিক সমীকরণ নিচে তুলে ধরা হলো:
| রাজ্য/অঞ্চল | মোট আসন | প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জোট |
| কেরল | ১৪০ | এলডিএফ (বাম জোট) বনাম ইউডিএফ (কংগ্রেস জোট) |
| অসম | ১২৬ | বিজেপি-অগপ জোট বনাম কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন মহাজোট |
| পুদুচেরি | ৩০ | এনআর কংগ্রেস-বিজেপি জোট বনাম কংগ্রেস-ডিএমকে জোট |
আঞ্চলিক লড়াইয়ের সমীকরণ
- কেরল: গত এক দশক ধরে মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের নেতৃত্বে ক্ষমতাসীন বামজোট (LDF) তাদের আধিপত্য বজায় রাখার লড়াইয়ে নেমেছে। বিপক্ষে রয়েছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ (UDF)। এ রাজ্যে মোট ৮৯০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
- অসম: ক্ষমতাসীন বিজেপি ও অসম গণ পরিষদ (AGP) জোটকে চ্যালেঞ্জ জানাতে এবার একজোট হয়েছে বিরোধীরা। কংগ্রেসের নেতৃত্বে এই জোটে রয়েছে সিপিএম, জেএমএম, অসম জাতীয় পরিষদ এবং অখিল গগৈয়ের রাইজর দল। তৃণমূল কংগ্রেস এখানে ২৩টি আসনে স্বতন্ত্রভাবে লড়াই করছে। রাজ্যে মোট প্রার্থীর সংখ্যা ৭২২।
- পুদুচেরি: এখানে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী এন রঙ্গস্বামীর নেতৃত্বাধীন এনআর কংগ্রেস-বিজেপি-এডিএমকে জোটের সঙ্গে সরাসরি লড়াই কংগ্রেস-ডিএমকে জোটের। এখানে ২৯৪ জন প্রার্থী নির্বাচনী ময়দানে রয়েছেন।
শেষ লগ্নের উত্তেজনা ও রাজনৈতিক তরজা
প্রচারের শেষ দিনে সরগরম ছিল জাতীয় রাজনীতি। দিল্লির কংগ্রেস নেতা পবন খেরা-র বাসভবনে অসম পুলিশের তল্লাশি অভিযানকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে উঠেছে। সম্প্রতি অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার স্ত্রী রিনিকি ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে তিনটি পাসপোর্ট রাখার অভিযোগ তুলেছিলেন খেরা। তার পরপরই এই পুলিশি অভিযানে প্রতিহিংসার রাজনীতি দেখছে বিরোধীরা।
মঙ্গলবার শেষ মুহূর্তের প্রচারে ঝড় তোলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, রাহুল গান্ধী, অমিত শাহ, মল্লিকার্জুন খাড়্গে এবং বিজেপি নেতা নীতিন নবীনের মতো শীর্ষ নেতৃত্ব।
পরবর্তী দফার নির্ঘণ্ট ও উপনির্বাচন
৯ এপ্রিলের ভোটের পর নজর থাকবে পরবর্তী দফার দিকে:
- ২৩ এপ্রিল: তামিলনাড়ুর ২৩৪টি আসন এবং পশ্চিমবঙ্গের ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ। একই দিনে গুজরাত ও মহারাষ্ট্রে বিধানসভা উপনির্বাচনও অনুষ্ঠিত হবে।
- ২৯ এপ্রিল: পশ্চিমবঙ্গের বাকি ১৪২টি আসনে দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ।
- উপনির্বাচন: আগামী বৃহস্পতিবার বিধানসভা ভোটের সঙ্গেই গোয়া, কর্নাটক, নাগাল্যান্ড ও ত্রিপুরার নির্দিষ্ট আসনগুলিতে উপনির্বাচন সম্পন্ন হবে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, সবকটি বিধানসভা ও উপনির্বাচনের ভোটগণনা সম্পন্ন হবে আগামী ৪ মে।

