ঘরের মাঠেও ভাগ্য ফিরল না কলকাতা নাইট রাইডার্সের। আইপিএলের দ্বিতীয় ম্যাচে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের কাছে ৬৫ রানের বড় ব্যবধানে হারল কেকেআর। বোলিংয়ের পর ব্যাটিং— দুই বিভাগেই চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিলেন অজিঙ্ক রাহানেরা। প্রথমে ব্যাট করে হায়দরাবাদ ৮ উইকেটে ২২৬ রান তোলে। জবাবে মাত্র ১৬ ওভারেই ১৬১ রানে গুটিয়ে যায় নাইটদের ইনিংস।
লক্ষ্য ছিল পাহাড়প্রমাণ, শুরুতেই হোঁচট
২২৭ রানের বিশাল লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে নেমে কেকেআরের শুরুটা বিধ্বংসী মেজাজে করেছিলেন ফিন অ্যালেন। ডেভিড পাইনের এক ওভারেই ২৪ রান তুলে তিনি ঝড়ের ইঙ্গিত দিলেও ব্যক্তিগত ২৮ রানে (৭ বল) আউট হয়ে ফেরেন। অধিনায়ক রাহানে এদিনও হতাশ করেছেন; টি-টোয়েন্টি সুলভ গতির বদলে ১০ বলে মাত্র ৮ রান করে আউট হন তিনি। ক্যামেরন গ্রিন (২) এবং অঙ্গকৃশ রঘুবংশীর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির জেরে একটি দুর্ভাগ্যজনক রান আউট কেকেআরকে আরও চাপে ফেলে দেয়।
ব্যর্থ রিঙ্কু-রঘুবংশী লড়াই
চতুর্থ উইকেটে রঘুবংশী এবং রিঙ্কু সিংহ ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করেন। রঘুবংশী ২৯ বলে ৫২ রানের ইনিংস খেলে রান আউট হন। এরপর নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারাতে থাকে কেকেআর। অনুকূল রায় (০) এবং রমনদীপ সিংহ (১০) দ্রুত ফিরে যান। রিঙ্কু সিংহ ৩৫ রান করলেও নীতীশ কুমার রেড্ডির শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন। শেষের দিকে সুনীল নারাইন ২ বলে ১২ রান করে ইডেন গ্যালারিতে সাময়িক উত্তেজনা ছড়ালেও হার বাঁচানোর জন্য তা যথেষ্ট ছিল না।
হায়দরাবাদের বোলিং পরিসংখ্যান:
- জয়দেব উনাদকাট: ২১ রানে ৩ উইকেট।
- নীতীশ কুমার রেড্ডি: ১৭ রানে ২ উইকেট।
- এশান মালিঙ্গা: ১৪ রানে ২ উইকেট।
হায়দরাবাদের ব্যাটিং তাণ্ডব
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে হায়দরাবাদের দুই ওপেনার ট্রেভিস হেড (২১ বলে ৪৬) এবং অভিষেক শর্মা (২১ বলে ৪৮) ঝোড়ো সূচনা করেন। মাঝে দ্রুত কয়েকটি উইকেট পড়লেও হেনরিখ ক্লাসেন এবং নীতীশ কুমার রেড্ডির ৮২ রানের জুটি দলকে ২০০ রানের গণ্ডি পার করে দেয়। ক্লাসেন ৩৫ বলে ৫২ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন। কেকেআরের হয়ে ব্লেসিং মুজ়ারাবানি ৪ উইকেট নিলেও খরচ করেন ৪১ রান। বৈভব অরোরা ২ উইকেট পেলেও তাঁর ৪ ওভারে ওঠে ৪৭ রান।
ফিল্ডিং ও বোলিং নিয়ে দুশ্চিন্তা
এদিনের ম্যাচে দুই দলের ফিল্ডিংই ছিল অত্যন্ত নিম্নমানের। ক্যাচ মিস এবং রান আউটের সুযোগ নষ্ট করার ফলে দুই দলই অতিরিক্ত রান উপহার দেয়। তবে কেকেআরের জন্য বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বরুণ চক্রবর্তীর বোলিং। তাঁর রহস্য স্পিন এখন বিপক্ষ ব্যাটারদের কাছে কার্যত পরিষ্কার। মাত্র ২ ওভার বল করে ৩১ রান দেওয়ার পর অধিনায়ক তাঁকে আর ব্যবহার করার সাহস পাননি।
ঘরের মাঠে এই হারের পর অভিষেক নায়ারের দলের কৌশল এবং ক্রিকেটারদের ফর্ম নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল। পরবর্তী ম্যাচগুলোতে ঘুরে দাঁড়ানোই এখন কেকেআরের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

