আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে উন্নয়নের একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি নিয়ে ‘সংকল্প পত্র’ বা ইস্তেহার প্রকাশ করলেন মেদিনীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর গুছাইত। বুধবার মেদিনীপুর শহরের সিপাহী বাজার এলাকায় অবস্থিত দলীয় নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই সংকল্প পত্রটি জনসমক্ষে আনা হয়।
প্রতিশ্রুতির মূল বিষয়সমূহ
বিজেপি প্রার্থীর এই সংকল্প পত্রে মোট ২০টি প্রধান প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মেদিনীপুরের সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে মূলত চারটি স্তম্ভের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি: ১. শিক্ষা ও স্বাস্থ্য: উচ্চশিক্ষা ও আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থাকে সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে আনা। ২. পানীয় জল: প্রতিটি বাড়িতে বিশুদ্ধ পানীয় জলের স্থায়ী সমাধান। ৩. পরিকাঠামো: রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ। ৪. যানজট মুক্তি: মেদিনীপুর শহরের দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার স্থায়ী নিরসনে বিশেষ পরিকল্পনা।
প্রযুক্তিনির্ভর জনসেবা: ‘বিধায়ক অ্যাপ’
নির্বাচনী ইস্তেহারে ডিজিটাল পরিষেবাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন শঙ্কর গুছাইত। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, নির্বাচনে জয়ী হলে তিনি একটি ‘বিধায়ক অ্যাপ’ (MLA App) চালু করবেন।
“এই অ্যাপের মাধ্যমে মেদিনীপুরের সাধারণ মানুষ সরাসরি তাঁদের অভাব-অভিযোগ বা প্রয়োজনের কথা জানাতে পারবেন। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত সমস্যার সমাধান করাই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য।” — শঙ্কর গুছাইত
দলীয় প্রতিক্রিয়া ও রণকৌশল
এদিন সংকল্প পত্র প্রকাশের সময় প্রার্থীর পাশে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব ও বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থক। দলীয় নেতৃত্বের মতে, এই ২০ দফা সংকল্প পত্র কেবল প্রতিশ্রুতি নয়, বরং মেদিনীপুরকে একটি উন্নত ও আধুনিক শহরে পরিণত করার একটি নির্দিষ্ট দিশারি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূল স্তরে জনসংযোগ বাড়াতে এবং ভোটারদের কাছে নিজের উন্নয়নমূলক ভাবমূর্তি তুলে ধরতে এই ইস্তেহার বিজেপি প্রার্থীর জন্য অত্যন্ত কার্যকর হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। এখন দেখার, এই ‘সংকল্প’ মেদিনীপুরের নির্বাচনী লড়াইয়ে কতটা হাওয়া কাড়তে পারে।

