রাজ্যে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ফের বড়সড় বাধার সৃষ্টি হলো। বুধবার পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ (WBBPE) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বর্তমানে চলমান ইন্টারভিউ বা সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়া আপাতত স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। পর্ষদের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে কয়েক হাজার চাকরিপ্রার্থীর মনে চরম হতাশা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে কী জানাল পর্ষদ?
পর্ষদের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে ইন্টারভিউ স্থগিতের কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি। শুধুমাত্র ‘অনিবার্য কারণবশত’ এই প্রক্রিয়া বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে ১৩ হাজার ৪২১টি শূন্যপদে নিয়োগের এই প্রক্রিয়া কবে পুনরায় শুরু হবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর ধোঁয়াশা। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, ভোট মেটার আগে এই প্রক্রিয়ার চাকা ঘোরার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
কেন এই স্থগিতাদেশ? নেপথ্যে কি নির্বাচন?
যদিও পর্ষদ সরাসরি কোনো কারণ দেখায়নি, তবে শিক্ষামহল মনে করছে লোকসভা নির্বাচনের কারণেই এই পদক্ষেপ। পর্ষদ সূত্রে দাবি করা হয়েছে:
- যাতায়াত সমস্যা: নির্বাচনের সময় রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় যাতায়াতে সমস্যা হতে পারে জানিয়ে বহু প্রার্থী পর্ষদকে ই-মেল করেছিলেন।
- আচরণবিধি: ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়ে যাওয়ায় নিয়োগের পরবর্তী ধাপগুলো বা কাউন্সেলিং করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে আইনি ও প্রশাসনিক প্রশ্ন উঠেছিল। এর জেরেই হয়তো এই স্থগিতাদেশ।
নিয়োগ প্রক্রিয়ার বর্তমান স্থিতি
২০২২ সালের টেট পরীক্ষার ভিত্তিতে ১৩ হাজার ৫০৬ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য গত বছরের ডিসেম্বর থেকে পর্যায়ক্রমে ইন্টারভিউ শুরু হয়েছিল।
- সম্পন্ন পর্যায়: প্রথম থেকে চতুর্থ দফার ইন্টারভিউ আগেই শেষ হয়েছে।
- সাম্প্রতিক আপডেট: গত ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্ষদ পঞ্চম থেকে দশম দফার ইন্টারভিউয়ের বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল। এর মধ্যে ১৯ মার্চ নদিয়া জেলার (পঞ্চম পর্যায়) ইন্টারভিউ শেষ হয়।
- বাকি জেলা: পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, আলিপুরদুয়ার, দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদহ, পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূম জেলার প্রার্থীদের সাক্ষাৎকারের সূচি ঘোষণা করা হলেও তা এখন বিশ বাঁও জলে।
চাকরিপ্রার্থীদের দীর্ঘশ্বাস ও ক্ষোভ
পর্ষদ সভাপতির পূর্ববর্তী প্রতিশ্রুতি ছিল বছরে অন্তত দুবার নিয়োগ হবে। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। এক হতাশ চাকরিপ্রার্থী জানান, “২০১৪ ও ২০১৭-র টেট উত্তীর্ণদের নিয়োগ হলেও ২০২২ ও ২০২৩-এর উত্তীর্ণ এবং ডিএলএড প্রশিক্ষিতরা বঞ্চিতই থেকে গেলেন। প্রায় তিন বছর পর ২০২৫-এ বিজ্ঞপ্তি এসেছিল, এখন আবার তা থমকে গেল।”
আপাতত নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার আগে প্রার্থীদের অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

