বনগাঁয় চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা: তৃণমূল প্রার্থী ও শঙ্কর আঢ্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে আদালতের দ্বারস্থ স্বপন মজুমদার

বনগাঁয় চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা: তৃণমূল প্রার্থী ও শঙ্কর আঢ্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে আদালতের দ্বারস্থ স্বপন মজুমদার

নির্বাচনের প্রাক্কালে উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে রাজনৈতিক পারদ চড়ল তুঙ্গে। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী ঋতুপর্ণা আঢ্য এবং তাঁর বাবা তথা বনগাঁর প্রাক্তন পুরপ্রধান শঙ্কর আঢ্যের বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরাসরি আদালতের দ্বারস্থ হলেন বিজেপি প্রার্থী স্বপন মজুমদার। মঙ্গলবার এক সাংবাদিক বৈঠকে জমি দখল থেকে শুরু করে ভুয়ো জাতিগত শংসাপত্র (Caste Certificate)— একগুচ্ছ গুরুতর অভিযোগ এনে সরব হন বিজেপি বিধায়ক।

দুর্নীতির খতিয়ান: বিজেপি প্রার্থীর অভিযোগ

এদিন নিজের দপ্তরে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে স্বপন মজুমদার দাবি করেন, বনগাঁর প্রভাবশালী ব্যক্তি শঙ্কর আঢ্য তাঁর পুরপ্রধান থাকাকালীন ক্ষমতার ব্যাপক অপব্যবহার করেছেন। তাঁর তোলা প্রধান অভিযোগগুলি হলো:

  • আবাসন প্রকল্পে প্রতারণা: শঙ্কর আঢ্য চেয়ারম্যান থাকাকালীন ৫৩৮টি সরকারি ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে প্রায় ১৯ কোটি টাকা নিজের অ্যাকাউন্টে সরিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ।
  • জমি ও জলাশয় দখল: বনগাঁ থানার সামনে সরকারি পুকুর ভরাট করে বেআইনি নির্মাণ এবং মাসিক ৫ হাজার টাকা ভাড়ায় ৯৯৯ বছরের জন্য লিজ দেওয়ার মতো চাঞ্চল্যকর দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন স্বপন বাবু।
  • নিম্নমানের জল প্রকল্প: এলাকার পানীয় জল প্রকল্পগুলোর মান অত্যন্ত খারাপ হওয়ায় সাধারণ মানুষ বিশুদ্ধ জল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে দাবি বিজেপি প্রার্থীর।

‘ভুয়ো’ জাতিগত শংসাপত্র বিতর্ক

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অভিযোগটি উঠেছে তৃণমূল প্রার্থী ঋতুপর্ণা আঢ্যের বিরুদ্ধে। স্বপন মজুমদারের দাবি, ঋতুপর্ণা দেবী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য একটি ‘নকল’ বা ভুয়ো জাতিগত শংসাপত্র ব্যবহার করে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। এই বিষয়টিকে আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি আদালতের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। বিজেপি প্রার্থীর বক্তব্য, “নির্বাচন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ রাখতে এই ধরনের প্রতারণার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ জরুরি।”

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

বিজেপি বিধায়কের অভিযোগ, এই বিশাল দুর্নীতির পেছনে প্রশাসনের একাংশের পরোক্ষ মদত রয়েছে। তিনি এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

শঙ্কর আঢ্যের প্রতিক্রিয়া ও রাজনৈতিক আবহ

পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় সমস্ত অভিযোগ নস্যাৎ করে দিয়েছেন শঙ্কর আঢ্য। তাঁর দাবি, এই অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। নির্বাচনের আগে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে কালিমালিপ্ত করতেই বিজেপি এই কৌশল নিয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

বনগাঁ দক্ষিণ কেন্দ্রে এই অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের জেরে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এখন আদালতের রায় কোন দিকে যায় এবং নির্বাচন কমিশন এই বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.