ইরান-ইজ়রায়েল সংঘাত: বোমান ইরানির ব্যঙ্গাত্মক ভিডিওতে ক্ষুব্ধ মন্দানা করিমি, তুঙ্গে বাগ্‌যুদ্ধ

ইরান-ইজ়রায়েল সংঘাত: বোমান ইরানির ব্যঙ্গাত্মক ভিডিওতে ক্ষুব্ধ মন্দানা করিমি, তুঙ্গে বাগ্‌যুদ্ধ

পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবার বলিউডের অন্দরেও বিবাদের ছায়া ফেলল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি প্রস্তাব এবং ইরান পরিস্থিতি নিয়ে প্রবীণ অভিনেতা বোমান ইরানির একটি ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও ঘিরে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন ইরানি বংশোদ্ভূত বলিউড অভিনেত্রী মন্দানা করিমি। দীর্ঘদিনের নীরবতা ভেঙে বোমান কেন এখন বিষয়টি নিয়ে ‘মজা’ করছেন, সেই প্রশ্ন তুলে সামাজিক মাধ্যমে তাঁকে একহাত নিয়েছেন মন্দানা।

বিবাদের সূত্রপাত: বোমান ইরানির সেই ভিডিও

সম্প্রতি একটি ভিডিও পোস্ট করে কৌতুকের ছলে বোমান ইরানি মন্তব্য করেন যে, ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন ‘ইরানিদের’ সঙ্গে কথা বলতে চাইছেন। পারসি সম্প্রদায়ভুক্ত বোমান রসিকতা করে বলেন, আলোচনার জন্য স্মৃতি ইরানি, অরুণা ইরানি এবং তাঁর (বোমান ইরানি) ডাক পড়েছে। তিনি আরও বলেন, ট্রাম্প যদি তাঁর দাদারের পারসি কলোনির বাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে আসেন, তবে তিনি তাঁকে বিশেষ পারসি খাবার খাইয়ে আপ্যায়ন করবেন। ভিডিওটি নেটপাড়ায় হাসির রোল তুললেও মন্দানার কাছে তা অত্যন্ত ‘অসংবেদনশীল’ বলে মনে হয়েছে।

মন্দানা করিমির কড়া জবাব

ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার কট্টর সমালোচক এবং ইজ়রায়েল-আমেরিকার সমর্থক হিসেবে পরিচিত মন্দানা করিমি বোমানের এই ভিডিওর নিচে দীর্ঘ মন্তব্য করেন। তাঁর মূল অভিযোগগুলি হলো:

  • দীর্ঘ নীরবতা: যখন ইরানে হাজার হাজার মানুষ গ্রেফতার হচ্ছিল, মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হচ্ছিল বা পরিবারগুলো ধ্বংস হয়ে যাচ্ছিল, তখন বোমান কেন চুপ ছিলেন?
  • সময়ের প্রাসঙ্গিকতা: এতদিন নীরব থেকে হঠাৎ আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও শান্তি আলোচনা নিয়ে কেন এই ব্যঙ্গাত্মক সুর?
  • ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা: মন্দানা মনে করিয়ে দেন যে, তিনি নিজে একজন ইরানি হিসেবে এই যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে গিয়েছেন, তাই এই বিষয় নিয়ে ঠাট্টা করা অনুচিত।

মন্দানা লিখেছেন, “বাহ, খুব ভালো! এতদিন নীরব থেকে এখন হঠাৎ গ্যাস, রাজনীতি আর আন্তর্জাতিক আলোচনা নিয়ে ব্যঙ্গ করছেন? খুব দ্রুত আপনার পরিবর্তন হলো!”

নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়া ও পাল্টাপাল্টি যুক্তি

বোমান ইরানি এই সমালোচনার কোনো সরাসরি জবাব না দিলেও তাঁর অনুরাগীরা মন্দানাকে পাল্টা আক্রমণ করেছেন। অনেকের মতে, বোমানের ভিডিওটি ছিল নিছকই কৌতুক। কেউ কেউ আবার মন্দানাকে খোঁচা দিয়ে বলেছেন যে, যাঁরা অনেক বছর দেশে থাকেন না, তাঁরা হঠাৎ করে বিদেশের মাটিতে বসে দেশের নিয়মকানুন নিয়ে বিশেষজ্ঞ হয়ে ওঠেন।

উত্তরে মন্দানা পুনরায় দৃঢ়ভাবে জানান যে, তিনি এমন অনেক পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন যা সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা সম্ভব নয়। এর আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের মৃত্যুতেও আনন্দ প্রকাশ করে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন এই অভিনেত্রী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.